৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে ইতালিতে হামলার শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে যোগ দিতে গিয়ে মেস্ত্রে শহরে তিনি লাঞ্ছিত হন। বাঁধনের অভিযোগ, সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মীরা তার ওপর এই হামলা চালায়। সোমবার সকালে দেশে ফেরার পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন।
বাঁধন জানান, ঘটনার পর রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে তিনি ব্যাপক সহায়তা পেয়েছেন। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক, ইতালি সরকার, বাংলাদেশ সরকার এবং ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছে। বিশেষ করে, নিরাপত্তার খাতিরে উৎসবের পরিচালক তাকে লিডোতেই থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। এছাড়া ঘটনার দিন রাতেই বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং ইতালি সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগ তাকে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা প্রদান করে।
তবে সরকারি ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এই সহযোগিতার বিপরীতে নিজের সিনেমার টিমের আচরণে চরম আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বাঁধন। তিনি অভিযোগ করেন, তার সিনেমার টিম তাকে একরকম বর্জন বা ‘ডিজওন’ করেছে। উৎসবের বাকি দিনগুলোতে তাদের সঙ্গে অংশ নিতে তাকে নিষেধ করা হয়। এমনকি পরবর্তীতে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভালে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে সহশিল্পী সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মায়ের কাছ থেকে তিনি যথেষ্ট সহায়তা পেয়েছেন বলে জানান।
দেশবাসীর সমর্থন ও ভালোবাসার কথা স্মরণ করে বাঁধন বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে দেশের মানুষ ও প্রবাসী বাঙালিরা তাকে যে সমর্থন দিয়েছেন, তা তিনি কখনো ভুলবেন না। উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার মেস্ত্রে শহরে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা দায়ের করেছেন অভিনেত্রী। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচিত হয়েছে, যেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির একে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন।





