৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্থিক খাতের সংস্কারে ১২৭৬ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প

প্রকাশ:

দেশের আর্থিক খাতের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার একটি নতুন কারিগরি সহায়তা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ (এফএসএসপি-২) নামের এই প্রকল্পটি এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে পাঁচ বছর মেয়াদী এই প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ ১ হাজার ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে। বাকি ১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, খেলাপি ঋণ, সুশাসনের অভাব এবং পুরোনো প্রযুক্তিগত কাঠামোর মতো চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা বা ‘সেফটি নেট’ শক্তিশালী করা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চলমান ব্যাংক সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান।

প্রকল্পের আওতায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো আধুনিকায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শক সেবা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আমানত বিমা ট্রাস্ট ফান্ডের (ডিআইটিএফ) আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থ পরিশোধের সময় কমিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

প্রকল্পের ব্যয়ের একটি বড় অংশ প্রযুক্তি আধুনিকায়নে ব্যয় হবে। এর মধ্যে আইসিটি সরঞ্জাম কেনায় ৭১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা, কম্পিউটার সফটওয়্যারে ৩৫৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং ডেটাবেজ উন্নয়নে ৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন ইতিমধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে, যা দেশের আর্থিক খাতের তদারকি ও সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রকল্প প্রস্তাবটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে পরিকল্পনা কমিশনে জমা পড়ে। এরপর একই বছরের ২৩ নভেম্বর বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে সংশোধিত টিএপিপি চলতি বছরের মে মাসে পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন