গাজীপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে পোশাক শ্রমিককে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশ:

গাজীপুর সদর উপজেলার দরগারচালা এলাকায় চুরির অপবাদ দিয়ে এক পোশাক শ্রমিক নারীকে মারধর ও আটকে রেখে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই নারী মামলা দায়ের করলে শুক্রবার পুলিশ অভিযুক্তদের একজনকে গ্রেপ্তার করে এবং রবিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করে।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে পরিবারের ওপর অভিমান করে গ্রামের বাড়ি ছেড়ে গাজীপুরে আসেন ওই পোশাক শ্রমিক। সেখানে চাকরির সুবাদে দরগারচালা এলাকার হজরত আলীর স্ত্রী জাহানারা বেগমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে জাহানারা তাকে ধর্মবোন হিসেবে নিজের বাড়িতে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সেই সম্পর্কের বিশ্বাসে ভুক্তভোগী তার জমানো প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা জাহানারার কাছে গচ্ছিত রাখেন। কিছুদিন আগে টাকা ফেরত চাইলে জাহানারা তাকে বাসায় ডেকে নেন।

ভুক্তভোগী নারী জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাহানারার বাড়িতে পৌঁছালে তাকে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। এরপর তাকে মারধর করে একটি ঘরে আটকে রেখে কয়েকজন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। স্থানীয়রা তাকে আটকে রাখার বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ আসার আগে তারা ভুক্তভোগীর বক্তব্য ভিডিও করে রেখেছিলেন। পরে পুলিশ ওই নারীকে আলাদা করে নিয়ে ধর্ষণের কথা কাউকে না বলতে চাপ দেয় এবং অভিযুক্ত জাহানারা বেগমের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নিয়ে ভুক্তভোগীকে বাড়ি চলে যেতে বলা হয়। যদিও পরে ওই নারী কান্নাকাটি করে উপস্থিত জনতার সামনে ধর্ষণের ঘটনাটি প্রকাশ করে দেন।

ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক মিলন শেখ। তিনি জানান, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছিল বলে মনে হয়েছে। পরে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুনকে বিষয়টি জানালে তিনি তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিমকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে জয়দেবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম ভুক্তভোগীকে টাকা দিয়ে বিদায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাকে জানানো হয়েছিল ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা ও জামাকাপড় নেওয়া হয়েছে, যা ফেরত দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগী প্রথমে ধর্ষণের কথা বলেননি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ওসি আল মামুন জানান, এসআই রেজাউলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় হজরত আলী, তার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩২), সাইদুর (২৮), সজিব (২৪), সাইফুল ইসলাম (২৭) ও নাঈম (২৭) জড়িত রয়েছেন। ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, শনিবার সকালে তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন। তিনি জড়িত সকলের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন