সূর্যের আলোতেই চলবে সানকার, ২৫ টাকায় ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি

প্রকাশ:

রাজধানীর নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬-এ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পরিবেশবান্ধব বাহন ‘সানকার’। অটোরিকশার মতো দেখতে এই তিন আসনের যানটির পুরো ছাদ ও পেছনের অংশে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসানো হয়েছে। ছাদে ৪০০ ওয়াট এবং পেছনে ২০০ ওয়াটের প্যানেল থেকে পাওয়া শক্তিতে এটি দিনের বেলা চলতে পারে এবং বাড়তি বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমা থাকে।

ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের (ইউজিভি) অটোমোবাইল বিভাগের প্রধান মো. সাগর জানান, সূর্যের আলো না থাকলেও ব্যাটারিতে জমা থাকা শক্তিতে বাহনটি চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা চলতে সক্ষম। বর্তমানে এই প্রোটোটাইপটি তৈরি করতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, তবে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক উৎপাদনে দাম কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে উদ্ভাবকদের।

মেলায় ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) গবেষকদের তৈরি একটি ইলেকট্রিক বাইকের মোটরও নজর কেড়েছে। পুরোনো ৪৪০ ভোল্টের ইন্ডাকশন মোটরকে ৬০ ভোল্টে রূপান্তর করে এবং স্থানীয় কপার কয়েল ব্যবহার করে মাত্র ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে এই মোটর তৈরি করা হয়েছে। গবেষকদের দাবি, মাত্র ৩০ মিনিট ফাস্ট চার্জে বাইকটি ৮০ কিলোমিটার পথ চলতে পারবে এবং এতে বিদ্যুৎ খরচ হবে আনুমানিক ২৫ টাকা। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হলে বাইকটির দাম ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকার মধ্যে রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষক ইমতিয়াজ আবেদিন।

প্রদর্শনীতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিহত করার প্রযুক্তিও দেখা গেছে। ইন্টারসেপ্টর ব্যাগ্রো লিমিটেড ‘উল্কা’ নামের একটি ‘অ্যান্টি-ড্রোন ইন্টারসেপ্টর’ নিয়ে এসেছে, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও অনুসরণ করতে সক্ষম। উদ্যোক্তা এস এম ইশতিয়াকের মতে, বর্তমানে এর কার্যকর দূরত্ব ১ হাজার ৫০০ ফুট হলেও ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত উন্নয়নে এর সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব।

গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন দিনব্যাপী এই মেলার উদ্বোধন করেন। ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে।

শেয়ার করুন