৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জোর করে পদত্যাগে স্বাক্ষর, শিক্ষককে পুনর্বহালের নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রকাশ:

কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে জোর করে নেওয়া পদত্যাগপত্রের আইনি বৈধতা নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া শিক্ষককে অবিলম্বে স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মো. আলকাছ উদ্দিন আহমেদ বনাম রাষ্ট্র মামলায় এই রায় প্রদান করা হয়েছে। আদালত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া, পর্ষদ সভাপতিকে অপসারণ এবং প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এমপিও বন্ধের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের গোলাম নবী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলকাছ উদ্দিন আহমেদকে বলপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনাটি চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করা হয়েছিল। গত ২০ আগস্ট বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, যা লিখেছেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. ইকবাল কবির। রায় ঘোষণার সময় রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী মো. জহুরুল ইসলাম মুকুল ও মানবেন্দ্র রায় এবং পরিচালনা পর্ষদ সভাপতির পক্ষে আইনজীবী এস এম রেজাউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট একদল দুষ্কৃতকারী প্রধান শিক্ষক মো. আলকাছ উদ্দিন আহমেদকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। পরদিন তিনি কালিয়াকৈর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে তিনি লিখিতভাবে বিষয়টি জানান। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড তাকে স্বপদে বহাল থাকার নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন, রিটকারীর পদত্যাগপত্রটি স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়নি এবং এর কোনো আইনগত বৈধতা নেই। রিটকারী ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত এমপিও সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাই তাকে স্বপদে বহাল রাখতে পরিচালনা পর্ষদ আইনত বাধ্য। আদালত আরও জানান, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করা স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। এই রায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন