শান্ত পদ্মা এখন ফুঁসে উঠছে উজানের ঢলে। রাজশাহীতে প্রতিদিন নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। নদীর বুক ছাপিয়ে পানি এখন জনপদে প্রবেশ করছে, তলিয়ে যাচ্ছে চরের ঘরবাড়ি, উঠান ও চলাচলের পথ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ৩০ মিটার। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার হওয়ায় নদীটি এখন বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পানির হিসাব বলছে, গত কয়েক দিনে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ১৫ মিটার, যা শুক্রবার সকাল ৯টায় বেড়ে ১৭ দশমিক ২০ মিটারে দাঁড়ায়। শনিবার সকাল ৯টায় তা আরও বেড়ে ১৭ দশমিক ৩০ মিটারে পৌঁছায়। পাউবোর তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ০৫ মিটার থেকে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুপুর ৩টায় ১৭ দশমিক ১২ মিটারে পৌঁছায়, অর্থাৎ মাত্র তিন ঘণ্টায় ৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পায়।
নদীর দক্ষিণ তীরের চরখিদিরপুর ও খানপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের নিচু এলাকা ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসির আলী জানান, গত সপ্তাহ থেকেই পানি বাড়ছে এবং বিনোদন স্পটসহ অনেক এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। রাহেমা বেগম নামে আরেক বাসিন্দা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তারা চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া গুড়িপাড়া এলাকার নিম্নাঞ্চলেও পানি জমেছে, অনেক বাড়ির উঠান ও মেঝেতে পানি ঢুকে পড়েছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের মিটারগেজ রিডার এনামুল হক জানিয়েছেন, যদিও চরাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধে কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পানিবন্দি মানুষের সহায়তায় জেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে। জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, চরখিদিরপুর ও মিডল চরের প্রায় ২০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পানিবাহিত রোগের বিস্তার রোধে চর ও মাঝারচরসহ তিনটি স্থানে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।





