সিলেটে একদিন মৃত্যুহীন থাকার পর আবারো হামের উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছে চার মাস বয়সী মিম তাহসিন। মৃত শিশুটির বাড়ি জকিগঞ্জ উপজেলায়। এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ১৫৩ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৯৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতাল ভিত্তিক ভর্তির তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩৮ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৭১ জন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল হাসপাতালে তিন, পার্কভিউ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৫, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুই, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৩ এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৪৯৯ জন সন্দেহজনক রোগীর মধ্যে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সর্বোচ্চ ১৯৪ জন এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪৯ জন ভর্তি আছেন। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪৬ জন, পার্কভিউ মেডিক্যাল হাসপাতালে ৩৬ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৩০ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে ১০ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে আটজন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আটজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সাতজন, বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে দুইজন করে রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট এক হাজার ৪৪ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৭৬, সুনামগঞ্জে ৩৫৭, মৌলভীবাজারে ১৫৮ ও হবিগঞ্জে ১৫৩ জন রয়েছেন। এ বছর ১৫০ জন সন্দেহজনক এবং ১০ জন নিশ্চিত হাম রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। জেলাভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে সিলেটে ৬৫ জন, সুনামগঞ্জে ৫৬, হবিগঞ্জে ২২ ও মৌলভীবাজারে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একদিনের বিরতির পর আবারও মৃত্যু এবং নতুন রোগীর উচ্চ হার সিলেটে হামের প্রকোপকে উদ্বেগজনক পর্যায়ে রেখেছে।





