বুধবার ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনার সময় জাতীয় সংসদে তীব্র হট্টগোল ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করলে বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই শুরু করেন। পরিস্থিতি এক পর্যায়ে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, রুমিন ফারহানাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, প্রত্যেক সরকারেরই একটি চরিত্র থাকে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, সারের সংকট এবং দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। রুমিন আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করে। তাঁর এই বক্তব্যের সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ ও হইচই শুরু করেন।
রুমিন ফারহানা এ সময় সংসদ সদস্যদের অসহিষ্ণুতার সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে যেমন হট্টগোল হতো, এখন বিএনপিও একই ধরনের আচরণ করছে, যা আরও খারাপ। ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে বিএনপি সরকারের সময় ১৮(ক) ধারা যোগ করার বিষয়টি নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। রুমিন বলেন, এই সংসদে বেশিরভাগ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত এবং নির্বাচনের আগে হাইকোর্টে রিট করে নাম কাটানোর সংস্কৃতি তিনি বহু দেখেছেন।
নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় রুমিন ফারহানার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে তিনি মাইক ছাড়াই কথা চালিয়ে যান। এ সময় সরকারি দলের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে তাঁকে অশালীন গালি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ দাঁড়িয়ে বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না এবং তিনি অন্যদেরও প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রুমিন কী বলেছেন বা গালি দিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে রুমিন কি আদৌ তাঁর বক্তব্য রাখার অধিকার পেয়েছেন? এ সময় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি স্বাস্থ্যকর আলোচনার আহ্বান জানালে ডেপুটি স্পিকার জানান, অসংসদীয় বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে এবং কোনো সদস্যকে বাধা দেওয়া ঠিক নয়। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে অস্পষ্টতা প্রকাশ করেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনায় এ ঘটনা ঘটে।





