রাজশাহী জেলার চর খিদিরপুর ও মিডল চরের পানিবন্দী মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের ডগার ঘাট এলাকায় আশ্রয় নেওয়া ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে শুকনো খাবার তুলে দেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি তিনি পানিবন্দী মানুষের দুর্দশার কথা শোনেন এবং তাদের জন্য দুপুরের খাবারেরও ব্যবস্থা করেন।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, পদ্মার পানি বাড়ায় চর খিদিরপুর ও মিডল চরের প্রায় ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পরিবারের মাঝে ২৫ ধরনের পণ্য সম্বলিত ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। বন্যাকবলিত মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চর ও মাঝারচরসহ তিনটি স্থানে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে, যেখানে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পানিবাহিত রোগের বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সাময়িকভাবে ভ্রাম্যমাণ আশ্রয় ও গবাদিপশু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, চর খিদিরপুরের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০ ফুট উঁচুতে দুটি বড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে, যেখানে মানুষের পাশাপাশি কয়েক হাজার গবাদিপশু নিরাপদে রাখার সুযোগ থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে পদ্মার খিদিরপুর মিডল চরের প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার ও প্রায় ১০ হাজার গবাদিপশু পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি, উঠান ও চলাচলের পথ তলিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নৌকায় করে ডগার ঘাট এলাকায় চলে এসেছে।
চর খিদিরপুরের কৃষক জামু আলী জানান, আট দিন ধরে প্রায় ৩০০ পরিবার ও হাজার হাজার গবাদিপশু পানিবন্দী অবস্থায় আছে। জীবন বাঁচাতে অধিকাংশ মানুষ গরু নিয়ে পদ্মার এপারে চলে এসেছেন। তিনিও পরিবার-পরিজন, গরু ও আসবাবপত্র নিয়ে নৌকায় করে ডগার ঘাটে আশ্রয় নিয়েছেন। একই এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম জানান, সাত দিন ধরে পানির কারণে খুব কষ্টে আছেন এবং ত্রাণ হাতে পেয়ে তিনি আনন্দিত। কৃষক বজলুর রশিদ জানান, এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দী অবস্থায় থাকা তাদের জন্য বড় দুর্যোগ, আর এই সময়ে জেলা প্রশাসকের আন্তরিকতা ও ভালোবাসা তারা অনেক দিন মনে রাখবেন।
পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ত্রাণ বিতরণকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।





