চাঁদপুরের ইলিশের নামে প্রতারণা, নড়াইলে চক্রের ১১ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সস্তায় ‘চাঁদপুরের ইলিশ’ বিক্রির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসা একটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে চাঁদপুর জেলা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ১১ জন প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের মূল ঘাঁটি নড়াইলে।

সর্বশেষ গত রোববার নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় যৌথ অভিযান চালিয়ে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ফুরকান শেখ (২৫), চান মিয়া (২৫), রাতুল হোসেন (২৫) ও শহিদুল শেখ (২৩)। আজ মঙ্গলবার তাঁদের চাঁদপুরের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ১০টি মুঠোফোন, ৪৬টি সিম কার্ড (যার মধ্যে ২টি ভারতীয়) এবং ৭৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। এর আগে, একই অভিযোগে নড়াইল থেকে পৃথক দুটি অভিযানে গত ২০ আগস্ট দুজনকে এবং ২৬ আগস্ট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এই প্রতারক চক্রটি ফেসবুকে ‘চাঁদপুর ইলিশ বাজার’ কিংবা ‘চাঁদপুর মাছওয়ালা’র মতো আকর্ষণীয় নামে পেজ খুলে চাঁদপুরের তাজা ইলিশের এডিটেড ছবি ও ভিডিও এবং ভুয়া গ্রাহক রিভিউ ব্যবহার করে কম দামে ইলিশ বিক্রির বিজ্ঞাপন বুস্ট করত। ক্রেতারা বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে অর্ডার করলে তাদের কাছে বিকাশ বা নগদে অগ্রিম টাকা চাওয়া হতো। টাকা পাঠানোর পর ডেলিভারি কোড, ওটিপি বা সার্ভার সমস্যার অজুহাতে আরও টাকা দাবি করা হতো। এভাবে কয়েক দফায় টাকা নেওয়ার পর চক্রটি ক্রেতার নম্বর ব্লক করে যোগাযোগ বন্ধ করে দিত।

ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য চক্রটি অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র এবং চাঁদপুরের বিভিন্ন মৎস্যঘাটের ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করত।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নুর প্রথম আলোকে বলেন, “অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশের ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অনেক অভিযোগ আমরা পাচ্ছি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে দেখা গেছে, চক্রটির মূল শিকড় নড়াইলে। এর আগেও আমরা সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি। পুরো চক্রটিকে নির্মূল করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।”

এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন চট্টগ্রামের সংবাদকর্মী মীর মোহাম্মদ আসলাম। তিনি এতিমখানার শিশুদের ইলিশ খাওয়ানোর জন্য অনলাইনে আট কেজি ইলিশ অর্ডার করে প্রবাসীদের পাঠানো ১৫ হাজার ৯৮০ টাকা খুইয়েছেন। ওটিপি ও সার্ভার সমস্যার অজুহাতে ধাপে ধাপে তাঁর কাছ থেকে এই টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। কুমিল্লার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বসিরূল আলম ভূঁইয়াও ‘চাঁদপুর মাছওয়ালা’ নামের একটি পেজের মাধ্যমে একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে ৪ হাজার টাকা হারিয়েছেন। এসব ঘটনায় চাঁদপুরের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিক্রেতাদের নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতারণা থামছে না। চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল বারি জমাদার প্রথম আলোকে বলেন, “আমরা অনলাইনে ইলিশ কেনা থেকে সাধারণ মানুষকে বিরত থাকার অনুরোধ করছি। চাঁদপুরের তাজা ইলিশ পেতে হলে ক্রেতাকে সরাসরি ঘাটে আসতে হবে। অনলাইনে কিনতে গেলেই প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।”

শেয়ার করুন