৫৫৬ কোটির রুশ হেলিকপ্টার নিয়ে অনিশ্চয়তা: টাকা গেল, মিলল না পণ্য

প্রকাশ:

পুলিশবাহিনীর জরুরি প্রয়োজনে রাশিয়া থেকে কেনা দুটি হেলিকপ্টারের একটিও শেষ পর্যন্ত বুঝে পাচ্ছে না বাংলাদেশ সরকার। প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম। ৫৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে জি-টু-জি পদ্ধতিতে কেনা এই হেলিকপ্টারগুলোর জন্য ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিন অর্থবছরে মোট মূল্যের ৭০ শতাংশ বা প্রায় ৪২৮ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া এই আমদানির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ৪ শতাংশ হারে প্রায় ১৭ কোটি টাকা কমিশনও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে হেলিকপ্টারগুলো না পাওয়ায় সরকার অর্থ ও পণ্য উভয় দিক থেকেই ক্ষতির শিকার হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর রুশ কোম্পানি জেএসসি হেলিকপ্টার্সের সাথে এমআই১৭১এ২ মডেলের দুটি হেলিকপ্টার কেনার চুক্তি করে বাংলাদেশ। তবে ২০২২ সালের শুরুর দিকেই যুক্তরাষ্ট্র রুশ কোম্পানিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানার পরেও পর্যায়ক্রমে তিন বছর ধরে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এমনকি নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আটজন কর্মকর্তা প্রিশিপমেন্ট ইন্সপেকশনের জন্য রাশিয়া সফর করেন। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার হেলিকপ্টার আপাতত গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গিয়ে রাশিয়ার হেলিকপ্টার নেওয়া হলে ওয়াশিংটনের সাথে ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, তিনি এই হেলিকপ্টার কেনার সাথে জড়িত নন। অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবু নঈম জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে বড় ধরনের দুর্নীতির সম্ভাবনা রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরি চলছে। ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এ সংক্রান্ত মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত সৈয়দ আহসান আহমেদ সায়মুমকে এই ক্রয়ের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা কমিশন দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানার পরও চালান পরীক্ষার জন্য কর্মকর্তাদের রাশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ওই কর্মকর্তা জানান, আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তির শর্ত মেনেই তাদের যেতে হয়েছিল। বর্তমানে হেলিকপ্টার সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং কবে নাগাদ এই নিষেধাজ্ঞা কাটবে তা কেউ নিশ্চিত করতে পারছেন না।

শেয়ার করুন