সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী রুকমীলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ, ব্যাংক হিসাব এবং ব্যবসার রেকর্ড-সংক্রান্ত তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম।
আকতারুল ইসলাম জানান, দুদকের পক্ষ থেকে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীর বিষয়ে পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ বা এমএলএআর (MLAR) পাঠানো হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের সহায়তা চেয়েছিল দুদক। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এফবিআই থেকে এই তথ্য পাঠানো হয়েছে। তবে এফবিআইয়ের প্রতিবেদনটি ঠিক কবে হাতে পেয়েছে, তাতে সুনির্দিষ্ট কী তথ্য রয়েছে কিংবা কত টাকার সম্পদ চিহ্নিত করা হয়েছে, তা এখনও প্রকাশ করেনি দুদক। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে সাইফুজ্জামান দম্পতির কোনো সম্পদ এরই মধ্যে জব্দ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকার একটি আদালত সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্টদের সাত দেশে থাকা ১ হাজার ৮২৪ কোটি ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯০৫ টাকার সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন। দুদকের ওই আবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পত্তির ক্রয়মূল্য ৪৩৬ কোটি ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ২৪২ টাকা হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
একই ব্রিফিংয়ে দুদক কর্মকর্তা জানান, নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, তাঁর স্ত্রী নাসরিন ইসলাম এবং ওয়ান প্রপার্টি লিমিটেডের বিষয়ে আইনি সহায়তার অনুরোধের পুরোপুরি বাস্তবায়নের তথ্য দিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ অঞ্চল আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষ। তারা অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পত্তি অবরুদ্ধ করার তথ্যও দুদককে পাঠিয়েছে। ব্রিটিশ কোম্পানি নিবন্ধকের নথি অনুযায়ী, আইল অব ম্যানে নিবন্ধিত ওয়ান প্রপার্টি লিমিটেডের সুবিধাভোগী মালিক হলেন নজরুল ইসলাম মজুমদার ও নাসরিন ইসলাম। এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৭৮১ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার ৪৫৪ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছিল দুদক। এদিকে, ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করলে গতকাল আদালত তাঁকে তিন মাসের জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। দুদকের পক্ষ থেকে এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।





