চাঁদা দাবির অভিযোগে বহিষ্কার, সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ দেখেই লাপাত্তা যুবদল নেতা

প্রকাশ:

ফার্মেসি ব্যবসায়ীকে মারধর, ছয় ঘণ্টা আটকে রাখা এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ফজলুল হক রোমান নিজের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেও শেষ পর্যন্ত বক্তব্য দিতে পারেননি। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগেই পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

এর আগে, একই দিন পেশিশক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে গাজীপুর জেলা যুবদল ফজলুল হক রোমানকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করে। জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান মোল্লা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসির আকরাম পলাশ ও সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজিসহ যেকোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির দায় দল নেবে না। বহিষ্কারের পর নিজের অবস্থান তুলে ধরতে রোমান বিকেলে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন।

ফজলুল হক রোমান মাওনা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মাওনা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নিজস্ব কার্যালয়ে এক ফার্মেসি ব্যবসায়ীকে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে লোহার রড দিয়ে মারধর করেন। ভুক্তভোগী মো. আতিকুল ইসলামের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রেসক্রিপশন ছাড়া হৃদরোগের ওষুধ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জের ধরে তাঁকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ব্যবসা করতে হলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করা হয়। মারধরের ফলে আতিকুল ইসলামের দুই উরুতে জখম হয়।

গত ৩ সেপ্টেম্বর আতিকুল ইসলাম শ্রীপুর মডেল থানায় ফজলুল হক রোমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, স্বামীকে আটকে রাখার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকেও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। তবে সংবাদ সম্মেলন থেকে রোমান চলে যাওয়ায় এবং আত্মগোপনে থাকায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন