বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই কোটি মানুষের চোখে টেলিভিশন বা বড় পর্দার সামনে উত্তেজনায় ঠাসা সময়। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কাছে এই বিশ্বকাপের আনন্দের ভাষা ও অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন। চোখে দেখতে না পেলেও ধারাভাষ্য, চারপাশের মানুষের প্রতিক্রিয়া, বন্ধুদের বর্ণনা আর নিজেদের কল্পনার শক্তিতে তারা ফুটবলের প্রতিটি মুহূর্ত সমানভাবে উপভোগ করছেন।
চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও রয়েছে প্রবল উচ্ছ্বাস। তাদের কাছে ফুটবল কেবল দৃশ্যের খেলা নয়, বরং এটি শব্দ, আবেগ ও অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। ধারাভাষ্যের প্রতিটি শব্দ আর গ্যালারির চিৎকারে তারা মনের ক্যানভাসে পুরো ম্যাচের ছবি এঁকে নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ওসামা হোসেন নাহিদ বলেন, তার দৃষ্টি সীমিত হলেও তিনি ফুটবলকে গভীরভাবে অনুভব করেন। বড় পর্দার সামনে বসে যতটা সম্ভব খেলা উপভোগ করার চেষ্টা করেন তিনি, কারণ তার কাছে ফুটবল কেবল দেখা নয়, বরং অনুভবের বিষয়। একই বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান জানান, রেফারির বাঁশি, ধারাভাষ্য আর দর্শকদের উল্লাস শুনেই তারা পুরো ম্যাচের চিত্র কল্পনা করে নেন। তার মতে, ফুটবল এমন একটি ভাষা যা চোখের সীমাবদ্ধতাকেও অনায়াসেই অতিক্রম করে।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলিফ জানান, ম্যাচের অনেক মুহূর্ত অন্যদের বর্ণনায় বুঝতে হয়, তবুও ফুটবলের প্রতি তাদের ভালোবাসায় কোনো ঘাটতি নেই। বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নতি তাদের মনে নতুন স্বপ্ন জাগায়। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী নাইম হোসেন বলেন, ধারাভাষ্যকারের কণ্ঠে গোলের আগের উত্তেজনা শুনে মনে হয় যেন তিনি নিজেও গ্যালারিতে বসে খেলা দেখছেন। দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও ফুটবলের আনন্দ থেকে তিনি কখনো বঞ্চিত হন না।
এই শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবরিনা সুলতানা বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা ধারাভাষ্য, আশপাশের মানুষের প্রতিক্রিয়া ও কল্পনার মাধ্যমে খেলার আনন্দ উপভোগ করেন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে অডিও ডিসক্রিপশনসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে তাদের জন্য বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ ও আনন্দদায়ক হবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের এই অংশগ্রহণ মনে করিয়ে দেয়, ফুটবলের আনন্দ কেবল চোখে দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি অনুভূতি ও ভালোবাসারও এক বড় অংশ।





