আদালতকক্ষে আইনজীবীর সঙ্গে বিরিয়ানি খেলেন সাহেদ করিম

প্রকাশ:

দুদকের করা একটি মামলায় হাজিরা দিতে এসে আদালতকক্ষে নিজের আইনজীবীর সঙ্গে বসে বিরিয়ানি খাওয়ার ঘটনায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর এজলাসে এ দৃশ্য দেখা যায়। বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন তখন এজলাসে ছিলেন না।

আদালত সূত্র জানায়, সাহেদের আইনজীবী বিচারকের কাছ থেকে মৌখিকভাবে অনুমতি নিয়েই এই খাবার খাওয়ার আয়োজন করেন। খাওয়া শেষ হওয়ার পর ১২টা ৪৫ মিনিটে সাহেদকে আদালতকক্ষ থেকে বের করে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে, এদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নতুন তারিখ আগামী ৪ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন। এই মামলায় সাহেদকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছিল। জামিনে থাকা অপর পাঁচ আসামি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) শফিউর রহমান ও গবেষণা কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম আদালতে হাজিরা দেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদকে শুরুতে আসামি না করা হলেও তদন্তে নাম আসায় অভিযোগপত্রে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০২২ সালের ১২ জুন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু করেন। মামলার বিবরণে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাইসেন্স নবায়ন না থাকা রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক সই ও সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে ৩ হাজার ৯৩৯ জন রোগীর নমুনা বিনা মূল্যে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করেছিলেন। এছাড়া, ওই হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার জন্য রোগীপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ এবং হাসপাতালের কর্মীদের মাসিক খাবার খরচ হিসেবে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার ভুয়া চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

শেয়ার করুন