কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কোদালকাটি নদীর ওপর নির্মিত প্রায় নয় কোটি টাকা ব্যয়ের সেতুটি নির্মাণের চার বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো কাজে আসছে না। সেতুর মূল অবকাঠামোর প্রায় ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি এখন স্থানীয়দের কাছে উন্নয়নের এক অপূর্ণ প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামোটি বর্তমানে পুরোপুরি ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অনূর্ধ্ব-১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালে শ্রীনগর ও গজারিয়া ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমাতে এই সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দরপত্রের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ কাজটি পায়, যারা পরবর্তীতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স মুমিনুল হক এন্টারপ্রাইজকে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে নির্মাণকাজ শুরু করতে দেয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালেই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতায় দুই দফা সময় বাড়ানো হয়।
সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ার পেছনে জমি সংক্রান্ত মালিকানা বিরোধকে দায়ী করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের প্রতিনিধি মামুন মিয়ার ভাষ্যমতে, জমি নিয়ে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ানোয় দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে বর্তমানে আইনি জটিলতা অনেকটাই কেটে গেছে এবং বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলকাছ মিয়া, আনার মিয়া, সাজিদুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলামের মতে, সেতুটি চালু হলে শ্রীনগর ও গজারিয়া ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ হতো। বর্তমানে তাদের অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে, যা কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও রোগীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, সেতু নির্মাণের আগে সংযোগ সড়কের বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা থাকলেও কেন বছরের পর বছর এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেল।
ভৈরব উপজেলা প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ জানিয়েছেন, জমি সংক্রান্ত জটিলতা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজ শেষ হলেই সেতুটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। উন্নয়নসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বড় কোনো অবকাঠামো নির্মাণের আগে জমি ও আনুষঙ্গিক কাজের নিশ্চয়তা থাকা জরুরি, অন্যথায় সরকারি অর্থের সুফল থেকে জনগণ বঞ্চিত হয়। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা হবে।





