নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মাধ্যমে দেখেছে পুরো বিশ্ব। প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ এবং পানির তোড়ে ভেসে গেছে অসংখ্য মানুষ। কয়েক মিনিটের মধ্যেই শহর ও ভবনগুলো পানির নিচে হারিয়ে গেছে। তবে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতার মাঝেও বেঁচে থাকার কিছু অবিশ্বাস্য গল্প সামনে এসেছে।
অনলাইনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া একটি ঘটনায় দেখা যায়, সবুজ রঙের একটি বাড়িকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে প্রবল কাদামিশ্রিত পানির স্রোত। ২৮ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রথম ভিডিওতে দেখা যায়, বন্যার পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় বাড়িটির আশপাশের বেশ কয়েকটি স্থাপনা পানির তোড়ে ভেসে যাচ্ছে। ভিডিওতে বন্যার পানির ভয়াবহ স্রোতে গাছপালা ও বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ ভেসে যেতে এবং পথে থাকা ভবনগুলো ধ্বংস হতে দেখা যায়। কিন্তু এমন ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও সবুজ রঙের বাড়িটি আশ্চর্যজনকভাবে টিকে ছিল।
বাড়িটির ভেতরে একটি পরিবার আটকা পড়েছিল। ভয়াবহ দৃশ্য দেখে অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং তাদের জন্য প্রার্থনা করেন। তবে পরে প্রকাশিত একই বাড়িটির আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, চারদিক থেকে প্রবল স্রোতের পানি বয়ে গেলেও বাড়িটি তখনো অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই ভিডিওটি দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং অনেকে মন্তব্য করেন, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে বাড়িটি বন্যার পানি থেকে বেঁচে গেছে।
আশপাশের ভবনগুলো যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিংবা পানির স্রোতে ভেসে গেছে, সেখানে কীভাবে বাড়িটি এত শক্তিশালী স্রোত সহ্য করে দাঁড়িয়ে রইল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন অনেকে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেক ব্যবহারকারী একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে দাবি করা হয় বাড়িটির ভেতরে আটকে থাকা পরিবারটি ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে বেঁচে গেছে। এটি পরিবারটির নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ অনেকটাই দূর করে।
দুটি ভিডিওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখবার দেখা হয়েছে। ব্যবহারকারীরা বাড়িটির টিকে থাকা এবং পরিবারের বেঁচে যাওয়ায় বিস্ময় ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। একজন মন্তব্য করেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে তাদের মনে কী চলছিল? তারা কি একে অপরকে বিদায় জানাচ্ছিল, নাকি কেউ বেঁচে গেলে কী করতে হবে তা নিয়ে আলোচনা করছিল? তাদের কারও সাক্ষাৎকার নেয়া উচিত।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘এত ভয়াবহ শক্তির পরও বাড়িটি দাঁড়িয়ে থাকা শক্তিশালী নির্মাণের গুরুত্বের একটি উদাহরণ।’ অন্য একজন বাড়িটি নির্মাণকারী ব্যক্তির প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘যিনি এই ভবনটি তৈরি করেছেন, তাকে কৃতিত্ব দিতেই হয়।’





