ক্যান্সার চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি জ্ঞানের গুরুত্ব অপরিসীম

প্রকাশ:

ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসায় কেবল ওষুধ নয়, বরং রোগ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণাও বড় অস্ত্র হিসেবে কাজ করে। অনেক সময় প্রশ্ন ওঠে, ক্যান্সার বা এর বিভিন্ন মিউটেশন নিয়ে জ্ঞান অর্জন করে রোগীদের আদৌ কোনো লাভ হচ্ছে কি না। তবে বাস্তব চিত্র বলে, এই জ্ঞানই রোগীদের জীবনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। অতীতে ক্যান্সারকে একটি সাধারণ রোগ মনে করা হলেও, বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞানে ফুসফুসের ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ক্ষেত্রে EGFR, ALK বা ROS1 মিউটেশনের মতো সূক্ষ্ম পার্থক্য চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কয়েক বছর আগে ALK পজিটিভ ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীরা বড়জোর ছয় মাস থেকে এক বছর বেঁচে থাকতেন। কিন্তু বর্তমানে লরলাটিনিব (Lorlatinib)-এর মতো ওষুধের কল্যাণে অনেক রোগী দশ বছর বা তারও বেশি সময় স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। এই অগ্রগতি কেবল ওষুধের উদ্ভাবন নয়, বরং রোগের পেছনে দায়ী জিনগত পরিবর্তনের কারণ অনুসন্ধানের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে।

একইভাবে ক্রনিক মাইলয়েড লিউকেমিয়া (CML) একসময় প্রাণঘাতী হিসেবে বিবেচিত হলেও, বর্তমানে ইমাটিনিব (Imatinib)-এর মতো ওষুধের মাধ্যমে রোগীরা স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছেন। আজ Imatinib-এর মতো ওষুধের জন্য বহু মানুষ বছরের পর বছর প্রায় স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছেন। বিজ্ঞানীরা BCR-ABL নামক জিনগত পরিবর্তনের তথ্য উদঘাটন করার পরই এই ওষুধ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। অর্থাৎ, সঠিক জ্ঞান থেকেই আধুনিক চিকিৎসার পথ প্রশস্ত হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের লক্ষ্য হলো নতুন প্রযুক্তি ও জিনগত গবেষণার মাধ্যমে রোগীদের জীবনকাল বাড়ানো এবং তাদের সুস্থ রাখা।

চিকিৎসা এখন আর কেবল চিকিৎসকের একতরফা সিদ্ধান্ত নয়। বর্তমান যুগে রোগীকেও সচেতন হতে হবে এবং চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে, যাকে বলা হয় ‘শেয়ারড ডিসিশন মেকিং’। একজন সচেতন রোগী চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাই ক্যান্সার ও এর মিউটেশন নিয়ে আলোচনা বা লেখালেখি চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন, যাতে রোগীরা তাদের রিপোর্টের গুরুত্ব বুঝতে পারেন এবং প্রয়োজনে দ্বিতীয় মতামত নিতে উৎসাহিত হন। ভারতের কলকাতা ভিত্তিক মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট ও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. রাজীব ভট্টাচার্য জানান, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে শ্রী সুদীপ দাসের সঙ্গে (+৯১ ৮৯৮১১ ১৯৯৫০) অথবা ওয়েবসাইট (calcuttacancercare.com) ভিজিট করা যেতে পারে। মূলত, জ্ঞান মানুষকে বিভ্রান্ত করে না, বরং মুক্ত করে এবং আগামী দিনের উন্নত চিকিৎসার পথ দেখায়।

আজ সেই একই রোগীর হাতে যদি Lorlatinib-এর মতো ওষুধ থাকে, তাহলে অনেক রোগী দশ বছর বা তারও বেশি সময় ভালোভাবে জীবন কাটাচ্ছেন।

এক সময় Chronic Myeloid Leukemia (CML) মানেই ছিল খুব খারাপ খবর।

শেয়ার করুন