নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় দুর্যোগের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭৯ জন। হিমালয় অঞ্চলে সংঘটিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২৪ জনে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার হিমবাহ ধসে পাহাড়ি নদীগুলোতে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। এতে নেপালে ৫৭৯ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি চীনের তিব্বত অঞ্চলে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিয়েরং কাউন্টিতে অন্তত ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।
উদ্ধারকাজ নিয়ে উভয় দেশকেই সাময়িক বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। বন্যার পানিতে একটি হ্রদ উপচে পড়ার আশঙ্কায় শুক্রবার প্রায় তিন ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছিল। লেন্দে খোলা ও ত্রিশূলী নদীতে হ্রদের পানি উপচে পড়ার উপক্রম হলে নিরাপত্তার স্বার্থে চীনা উদ্ধারকর্মী ও যানবাহন সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় শুক্রবার পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। নেপালের কর্মকর্তারা এখনো নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা করছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের অনেকে ভারতের তীর্থযাত্রী, যাঁরা তিব্বতের কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। এদিকে নেপাল কর্তৃপক্ষ আরও দুটি প্রাকৃতিক বাঁধে আটকে থাকা হ্রদের পানির স্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। উপগ্রহের ছবিতে একটি হ্রদের আকার বাড়তে দেখা গেছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, হ্রদ দুটির পানি পুরোপুরি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকি থাকবে।
বন্যায় নেপালের গ্রাম ও উপত্যকাগুলোর পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র, সড়ক ও সেতু ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে কাঠমান্ডু থেকে তিব্বতের লাসা যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পথটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন দেশ নেপালকে উদ্ধার সহায়তার প্রস্তাব দিলেও কাঠমান্ডু জানিয়েছে, আপাতত বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সহায়তা প্রয়োজন নেই। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ নেপালে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।





