নারায়ণগঞ্জের আষারিয়ারচর ব্রিজের ফাটল মেরামতের কাজের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কার কাজের জন্য শুক্রবার মহাসড়কের ঢাকামুখী একটি লেন বন্ধ রাখায় দিনভর থেমে থেমে যানজট ছিল, যা বিকেলের পর আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। রাত দুইটার দিকে এই যানজটের সারি কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
দীর্ঘ সময় যানজটে আটকা পড়ে দূরপাল্লার বাসের যাত্রী, চালক এবং পণ্যবাহী যানবাহনের শ্রমিকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক যাত্রী একই স্থানে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে থাকার অভিযোগ করেছেন, যার ফলে অনেকে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। ফেনী থেকে ঢাকায় কর্মস্থলে আসা যাত্রী নূর মোহাম্মদ জানান, তিনি গজারিয়া এলাকায় তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে আছেন এবং তীব্র গরমে চরম অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অতিবৃষ্টির কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি ও বিঘ্ন তৈরি হচ্ছিল। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আষারিয়ার চর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী আল রাজী জানান, আষারিয়ার চর এলাকায় প্রায় পাঁচ মিটারজুড়ে থাকা গর্তে মাইক্রো কংক্রিট ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এই ঢালাই শক্ত হয়ে যান চলাচলের উপযোগী হতে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন, যে কারণে শুক্রবার ভোর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত মহাসড়কের একটি লেন বন্ধ রাখা হয়েছে।
দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে একটি লেন বন্ধ থাকায় যানবাহনের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ জানিয়েছেন, সংস্কার কাজের কারণে একটি লেন বন্ধ থাকায় যানবাহনের চাপ বেড়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে এবং হাইওয়ে পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় পণ্য পরিবহনেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।





