২৭৭ কর্মকর্তাকে উপসচিব পদোন্নতি, তালিকায় গুলির নির্দেশদাতা ১১ ম্যাজিস্ট্রেট

প্রকাশ:

জনপ্রশাসনে বড় ধরনের পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। মোট ২৭৭ জন সিনিয়র সহকারী সচিবকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যার একটিতে ২৬২ জন এবং অন্যটিতে বিদেশে দূতাবাসে কর্মরত ১৫ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতির কথা জানানো হয়েছে। নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে ৩১তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদেরও এই পদোন্নতির আওতায় আনা হয়েছে।

তবে এই পদোন্নতি তালিকায় জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার ওপর গুলির নির্দেশদাতা ১১ জন ম্যাজিস্ট্রেট এবং শেখ হাসিনার সময়ের সচিবদের ৯ জন একান্ত সচিব (পিএস) অন্তর্ভুক্ত থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জুলাই মাসের শুরুতে কোটাবিরোধী আন্দোলন দমনে সারাদেশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ক্র্যাকডাউন চালানো হয়, যেখানে সরকার অনুগত কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মাঠে নামানো হয়েছিল। নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার ইতিবাচক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বা আওয়ামী পরিবারের সদস্য এমন কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

পদোন্নতি পাওয়া বিতর্কিত ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকায় রয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব রুবায়েত হায়াত শিপলু, যিনি ২০ থেকে ৩১ জুলাই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। তালিকায় থাকা অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের উপপরিচালক মুহা: আবু তাহির, গাইবান্ধা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: কবীর হোসেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব তুষার আহমেদ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের সহকারী প্রকল্প পরিচালক নজরুল ইসলাম, অর্থ বিভাগের সৈয়দ আশরাফুজ্জামান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এস এম মুনিম লিংকন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মেহেদী হাসান এবং শেখ শামসুল আরেফিন। এদের অনেকেই জুলাইয়ের বিভিন্ন তারিখে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শেয়ার করুন