সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেকোনো পরিস্থিতিতে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী আরব নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, রিয়াদের নিরাপত্তার প্রতি ইসলামাবাদের এই অঙ্গীকার সম্পূর্ণ শর্তহীন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কূটনৈতিক ও শারীরিক উভয় দিক থেকেই সৌদি আরবের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সবসময় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেছেন তিনি। সম্প্রতি সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাইফের আকাশে একটি ড্রোন ধ্বংস করার পর তার ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক ইয়েমেনি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের চলমান এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে এর আগে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
আইএসপিআর মহাপরিচালক জোর দিয়ে বলেন, সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের যে প্রতিশ্রুতি, তার মধ্যে মক্কা ও মদিনার সুরক্ষা বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত। তিনি জানান, হারামাইন শরিফাইন রক্ষায় পাকিস্তান সেখানে সক্রিয় রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সংঘাতের শান্তিপূর্ণ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার ওপরই ইসলামাবাদ জোর দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
এর আগে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র প্রেক্ষাপটটি এক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই চুক্তির বিধান অনুযায়ী, জোটভুক্ত যেকোনো দেশের ওপর বিদেশি আক্রমণকে পুরো জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়ার সাথে সাথে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে নতুন ঝুঁকির আশঙ্কার মধ্যেও পাকিস্তান তাদের এই নীতিগত অবস্থানের কথা জানিয়ে দিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, এসব হামলায় ৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ওপর নতুন করে হুমকি তৈরি হয়েছে।





