২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে ১৫ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েট

প্রকাশ:

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জেরে গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই উপাচার্য ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপাচার্য প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। সেই সময়সীমার মধ্যে তিনি বের না হওয়ায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দুইজন অ্যালামনাই সদস্য উচ্চ রক্তচাপের জটিলতায় ভুগছেন।

উপাচার্যের সঙ্গে ভবনের ভেতরে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ ও তাঁর সহযোগীরাসহ বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী আটকা পড়েছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেখানে অন্তত ১০ থেকে ১১ জন অবরুদ্ধ ছিলেন। সোমবার দিবাগত রাত তিনটা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন। রাতে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহকে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। চিকিৎসক জানান, প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ ১৭০/১০০ মিলিমিটার পারদ পাওয়া গেছে, তাই তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও একজন অসুস্থ রয়েছেন। নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি সুস্থ আছেন, তবে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে বর্তমান উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। মূলত গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে অস্থিরতা চলছে। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। এর ফলে টানা তিন সপ্তাহ ধরে চুয়েটের সকল একাডেমিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

শেয়ার করুন