২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শান্তি কোনো বিলাসিতা নয়: অক্সফোর্ড ইউনিয়নে কাতারের প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ:

অক্সফোর্ড ইউনিয়নে আয়োজিত এক বিশেষ বক্তৃতায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল-থানী বর্তমান বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ছোট দেশগুলোকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ‘একটি বিভক্ত বিশ্বে সমৃদ্ধি: ক্ষুদ্র রাষ্ট্রসমূহ এবং বৈশ্বিক প্রভাবের মানচিত্র পুনর্নির্ধারণ’ শীর্ষক এই লেকচারে তিনি বর্তমান বৈশ্বিক সংকটে ছোট কিন্তু শক্তিশালী দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন। বর্তমান সংকটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ও উত্তেজনা এড়াতে কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রচলিত উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের বিভাজন বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় আর কার্যকর নয় বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। তিনি এমন দেশগুলোকে ‘সমৃদ্ধ রাষ্ট্র’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন—যারা নিজেদের সক্ষমতা, মানবসম্পদ এবং আধুনিক অবকাঠামোর মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তার মতে, সফল ও টেকসই অর্থনৈতিক মডেলের অধিকারী দেশগুলোর দায়িত্ব কেবল নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা নয়, বরং সম্মিলিতভাবে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা। ‘সমৃদ্ধ রাষ্ট্র’ (Prosperous States) ধারণার প্রস্তাবনা। তবুও যুদ্ধ বা সংঘাতকে স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে মেনে না নিয়ে বর্তমান নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে।

১৯৪৫ সালের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বলেন, সামরিক শক্তির চেয়ে আন্তর্জাতিক আইন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং উন্মুক্ত বাজারই শান্তির আসল ভিত্তি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ১২০টিরও বেশি নতুন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্তি ক্ষুদ্র দেশগুলোকে আধিপত্যবাদ থেকে সুরক্ষা দিয়েছে এবং স্বাধীনভাবে নীতি নির্ধারণের সুযোগ করে দিয়েছে। তবে বর্তমানে অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন ঘটলেও শান্তির প্রধান সিদ্ধান্তগুলো গুটিকয়েক শক্তির হাতে কুক্ষিগত থাকায় আঞ্চলিক সংঘাত ও ভারসাম্যহীনতা প্রকট হয়ে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার ফলে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংঘাতের সাথে সরাসরি যুক্ত নয় এমন রাষ্ট্রগুলোকেও এর মূল্য চুকাতে হচ্ছে। কাতারের ভূ-রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি জানান, একটি দেশের ভবিষ্যৎ কেবল প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে না, বরং বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, যারা শান্তিকে স্বাভাবিক অবস্থা বলে মনে করে না, তারা কাতারসহ মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এসব বিভ্রান্তি সত্ত্বেও কাতার তার কূটনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসবে না। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সমৃদ্ধ রাষ্ট্রগুলোর দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের প্রধান শর্ত। সংঘাত এড়াতে নিষ্ক্রিয় দর্শক না হয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তৃতা শেষ করেন। কাতার তার এই অবস্থান থেকেই দ্বন্দ্ব নিরসনে মধ্যস্থতা এবং শান্তি বজায় রাখার কূটনৈতিক নীতি গ্রহণ করেছে।

শেয়ার করুন