১৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্যাতিত মুসলিম সমাজের পাশে থাকার ঘোষণা: এরদোয়ান

প্রকাশ:

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক গথাম হলে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান প্রবাসী মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তুর্কি-আমেরিকান ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটিসহ (টিএএসসি) একাধিক স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও মুসলিম নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে এই সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে এরদোয়ান অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, পৃথিবীর কোনো প্রান্তেই মুসলিম সম্প্রদায়কে তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা, মৌলিক সংস্কৃতি এবং শিকড় ভুলে যেতে বাধ্য করা যাবে না।

সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, মুসলিমরা নিজেদের ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখেই স্বাগতিক দেশের মূলধারার সমাজব্যবস্থার সাথে স্বাভাবিকভাবে মিশে যেতে বা একাত্ম হতে পারেন। তবে সামাজিক অন্তর্ভুক্তির নামে জোরপূর্বক নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিলীন করে দেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টাকে মুসলিম সমাজ সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে। নিজ মাতৃভাষায় কথা বলা বা নিজস্ব ঐতিহ্য চর্চা করা যে কোনো সমাজেই নাগরিক হিসেবে মানিয়ে নেওয়ার পথে কখনোই বাধা হতে পারে না, সে বিষয়টিও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন তিনি।

বৈশ্বিক সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির তাগিদ

সমাবেশে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে মুসলমানদের বিদ্যমান সংকটজনক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি প্রবাসী সমাজকে স্বাগতিক দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলার তাগিদ দেন। ব্যক্তিপর্যায়ের সাফল্যগুলো যেন শুধু ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সেগুলোকে স্থায়ী প্রতিষ্ঠান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সামাজিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়, সেই লক্ষ্যে সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধিষ্ণু বর্ণবাদ, ইসলামবিদ্বেষ এবং বিদেশাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রবাসী মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার তাগিদ দেন এরদোয়ান।

রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও তুরস্কের অঙ্গীকার

বক্তৃতায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রবাসী মুসলমানদের দলে দলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের মতামত ও রাজনৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। নিজেদের সামাজিক ও নাগরিক অধিকার সুসংহত করার লক্ষ্যে প্রবাসী সকল নাগরিকের ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন তিনি। পরিশেষে, এরদোয়ান আশ্বাস প্রদান করে ঘোষণা করেন যে, আঙ্কারা যেকোনো পরিস্থিতিতে বিশ্বমঞ্চে ও প্রবাসে তুর্কি নাগরিকসহ সমস্ত মুসলিম সমাজের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

শেয়ার করুন