যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গত কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ কাজী আজিজুল হক খোকনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর রাতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিখোঁজ হওয়ার দিন অর্থাৎ ৩ অক্টোবরই মৃত্যুবরণ করেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান গত ৭ অক্টোবর স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো খোকনের পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের মাগুরা জেলায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর থেকে খোকনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও কমিউনিটির লোকজন বিভিন্ন জায়গায় তার সন্ধান করছিলেন।
খোকনের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গত ৫ অক্টোবর প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকেই তার সন্ধানে বিভিন্ন মহল থেকে প্রচেষ্টা চালানো হয়। স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কুইন্সের কিউ গার্ডেনস এলাকার নিজ বাসায় তিনি একাই থাকতেন। গত ৫ অক্টোবর পুলিশ তার বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে তল্লাশি চালায়, তবে তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। ওই সময় নিউইয়র্ক পুলিশের নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকাতেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এদিকে, গত ৭ অক্টোবর রাতে জ্যাকসন হাইটসে স্থানীয় কমিউনিটির নেতারা তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে একটি জরুরি মতবিনিময় সভাও করেছিলেন। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ৬ ও ৭ অক্টোবর প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, কুইন্সের কিউ গার্ডেনস এলাকার বাসায় একা থাকতেন তিনি।
তার নিখোঁজ হওয়ার সময়কাল সম্পর্কে জানা যায়, ৩ অক্টোবর থেকে তার সঙ্গে পরিচিতজনদের স্বাভাবিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কিছু তথ্যে বলা হয়েছে, গত ৪ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সচল ছিল এবং রিং হলেও তিনি তা রিসিভ করছিলেন না। এরপর থেকে তার কোনো হদিস মিলছিল না। স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে খোকনের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তার বৈধ কাগজপত্র সংক্রান্ত বিষয়েও স্থানীয় গণমাধ্যমে কিছু তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তার বাসাতেও তল্লাশি চালানো হয়। বর্তমানে তার মরদেহ ব্রুকলিনের ৫৯৯ উইনথ্রপ স্ট্রিটে অবস্থিত ওসিএমই (OCME)-এর ফরেনসিক প্যাথলজি অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসেস সেন্টারে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে জানা যায়, খোকনকে নিউইয়র্ক সিটির একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরিচয় ও স্বজনদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার মরদেহ নিউইয়র্ক সিটির অফিস অব দ্য চিফ মেডিকেল এক্সামিনার (OCME)-এর কাছে পাঠায়। নিউইয়র্ক সিটির OCME সাধারণত আকস্মিক, সন্দেহজনক, অজ্ঞাত বা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে এবং প্রয়োজন হলে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তেও সহায়তা করে।





