২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে প্রতিনিধি পাঠাতে তরুণদের সহায়তা করবে সরকার: মাহদী আমিন

প্রকাশ:

জাতীয় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত সেরা তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের বিকাশে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের এলডি হলে ‘বাংলাদেশ ইউথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই বিশেষ উদ্যোগের কথা জানান। ‘ফিউচার বাংলাদেশ’ আয়োজিত এই দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক ও জাতীয় নীতি নিয়ে ছায়া বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন।

উপদেষ্টা জানান, শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার লক্ষ্যে সরকার দেশজুড়ে একটি জাতীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত বিজয়ীদের সরকারি অর্থায়নে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে পাঠানো হবে। মাহদী আমিন আশ্বস্ত করেন যে, আগামী বছর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবনা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। তরুণরা যাতে বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই সরকার এই বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া—এই তিন ক্ষেত্রের সমন্বয় সাধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, নতুন কুঁড়ি, ক্বিরাআত ও হিফজ প্রতিযোগিতা, বিতর্ক এবং কুইজ প্রতিযোগিতার মতো মেধাভিত্তিক আয়োজনগুলো চলমান থাকবে। তিনি নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০০৭ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের বারুক কলেজের প্রতিনিধি হিসেবে তিনিও ‘মডেল ইউনাইটেড নেশনস’-এ অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন।

দেশের ইতিহাসে তরুণদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি অর্জনের নেপথ্যে তরুণদের রক্ত ও ত্যাগের ইতিহাস রয়েছে। বর্তমান সরকার কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে তরুণদের আত্মবিকাশের সুযোগ সৃষ্টিতে বদ্ধপরিকর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড। তিনি বলেন, ‘‘১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান—ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে তরুণরাই রাজপথে রক্ত দিয়ে মুক্তির পথ রচনা করেছে।

শেয়ার করুন