১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সংকটে লাকড়িতে রান্না, ঢাবি হলগুলোতে খাবারের দাম বৃদ্ধি

প্রকাশ:

তীব্র গ্যাস সংকটের কবলে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো। লাইনে গ্যাসের চাপ একেবারেই কম থাকায় হলগুলোর ক্যান্টিনে রান্না করা হচ্ছে লাকড়ি দিয়ে। এতে রান্নার ব্যয় ও সময় দুটোই বাড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে খাবারের দামের ওপর। নিত্যদিনের এই ভোগান্তির সাথে যুক্ত হয়েছে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা, যা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও পড়াশোনায় চরম বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। দেশে চলমান গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোতেও।

ক্যান্টিন মালিক ও কর্মীদের ভাষ্যমতে, দিনের বেশিরভাগ সময় পাইপলাইনে গ্যাস থাকে না। স্যার এএফ রহমান হলের ক্যান্টিন মালিক রবিউল ইসলাম জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় প্রতিদিন তাকে ২,০০০ টাকার লাকড়ি কিনতে হচ্ছে। আগে গ্যাসে খুব দ্রুত রান্না শেষ করা যেত, কিন্তু এখন লাকড়ির চুলার ধোঁয়া ও তীব্র তাপের মধ্যে দীর্ঘ সময় কাজ করতে গিয়ে বাবুর্চি ও কর্মচারীরা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এছাড়া রান্নার সময় বেড়ে যাওয়ায় কর্মীদের বিশ্রামের সুযোগও কমে গেছে।

মাস্টারদা সূর্যসেন হল ক্যান্টিনের পরিচালক মোহাম্মদ আলী রাজু একই সংকটের কথা তুলে ধরে জানান, প্রতিদিন প্রায় ২,০০০ টাকার লাকড়ি প্রয়োজন হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় জ্বালানির খরচ ব্যবস্থাপনা সহজ হলেও, এখন এই বাড়তি ব্যয় ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের কাঁধে এসে পড়েছে। এই বাড়তি খরচের কারণে খাবারের মানের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে জানিয়ে তিনি হল প্রশাসনের কাছে সংকটকালীন জ্বালানি ভর্তুকি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে আবারও চিঠি দেওয়ার কথা রয়েছে।

গ্যাসের এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে খাবারের মূল্যতালিকায়। বিভিন্ন ক্যান্টিন ঘুরে দেখা গেছে, মুরগি, হাঁস ও গরুর মাংসসহ বিভিন্ন আইটেমের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ডিম ও সবজির মতো সাধারণ খাবারের ক্ষেত্রেও বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী কাজী আক্রাম হোসেন জানান, এটি কোনো একক সমস্যা নয়, বরং দেশজুড়ে গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব এটি। তিতাস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলেও মূল উৎস থেকে উৎপাদন কম থাকায় চাপ বাড়ানো কঠিন হচ্ছে। প্রধান প্রকৌশলী বলেন, গ্যাসের সরবরাহের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মূল উৎস থেকেই গ্যাসের উৎপাদন কম হওয়ায় শুধু চাপ বাড়ানোর অনুরোধ করে সমস্যার সমাধান করা কঠিন।

গ্যাস সংকটের পাশাপাশি আবাসিক হলগুলোতে নিয়মিত লোডশেডিং নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী সাজিদ আবরার জানান, চার বছরে তিনি কখনো এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখেননি। তীব্র গরমের মধ্যে রাত-বিরাতে একটানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে একেবারেই কাম্য নয়। ইদানীং হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হয়েছে।

এই সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। তিনি জানান, ক্যান্টিন মালিকদের অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সাথে কথা বলে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া আবাসিক হলগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমানোর বিষয়েও আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

শেয়ার করুন