
সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি. ক্ষোভে উত্তাল মাগুরা.
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
মাগুরা সদর উপজেলায় সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লেনদেন। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত। অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিএনপির ত্যাগী নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ীকে বাদ দিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ এমন একটি দলের ব্যক্তিদের সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ। যোগ্যতা ও সরকারি শর্ত পূরণ করেও ডিলারশিপ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণকারী আবেদন বাদ দিয়ে মাগুরা সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হতে। নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে প্রভাবশালীদের সুপারিশ এবং অর্থ লেনদেনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একাধিক আবেদনকারী ডিলারশিপ পায়নি। এদিকে স্থানীয় বিএনপির নেতা মার্ডার মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি ও এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীর নিজস্ব গুদাম না থাকা এবং ভাড়া করা ঘর ব্যবহারকারীকে ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে অভিযোগ রয়েছে। জানাযায়, বেরইল পলিতা বাজার, মাগুরা সদর থানা সার ডিলারশিপ এর জন্যে নাজির গাজীর ছেলে মাজহার গাজীর আবেদন যাচাই-বাছাই না করেই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী একাধিক মামলার আসামীকে ডিলারশীপ দেওয়া হয়েছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে। এমন খবর জানতে পেরে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ মাগুরা সদর উপজেলার অনেক ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থলেনদেনের বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। নিয়োগ পাওয়া কয়েকজনের যোগ্যতা, গুদামের মালিকানা ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বঞ্চিত আবেদনকারীরা। সরকারি শর্ত পূরণ করে আবেদন করলেও তাঁদের যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। এ কারণে নিয়োগে অনুসরণ করা মানদণ্ড, যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদন এবং প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া প্রকাশের দাবি জানান তাঁরা। ঘটনার সত্যতার বিষয়ে মাগুরা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ মেহেরুন্নাহার জানান, আমরা প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে যোগ্য প্রার্থীর নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় যাঁদের যোগ্য মনে করেছে, তাঁদের নিয়োগ দিয়েছে। বিএনপির ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে ডিলার নিয়োগের অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, ‘নীতিমালায় কোথাও বলা নেই যে বিএনপির লোকদেরই নিয়োগ দিতে হবে। অপর একপ্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, কে মার্ডার মামলার আসামী, সন্ত্রাসী সেটা দেখার দায়িত্ব আমার নয়। কৃষি কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে জানাতে পারেন, ব্যবস্থা নিবো। অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি কোন জবাব দেননি। মাগুরা সদর উপজেলার কৃষিকর্মকর্তা মোঃ নূর এ নবী ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বলেন ইউএনও মহোদয় সব কিছু জানেন। সরেজমিনে, ক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা যে অভিযোগ করেছেন, তার মধ্যে সত্যতা পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, তুফান গাজীসহ তার পরিবারে বাবা-চাচাদের কারও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নেই, অভিজ্ঞতা নেই। এমনকি তাদের কোনো মুদি দোকানও নেই। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাদের নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ডিলারে মনোনীত ব্যক্তির কোনো ব্যক্তিগত দলীয় পরিচয়ও নেই এবং সে কখনোই নিয়মিত ভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। দলের দুঃসময়ে সে একটি মিছিল করেছে—এমন নজিরও এলাকাবাসীর জানা নেই। ৫ আগস্টের রাতে তাঁর নেতৃত্বে কিছু নিরীহ পরিবারের বাড়িঘরে লুটপাটের ঘটনায় জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ পাওয়াগেছে। মাজহার গাজীর বিরুদ্ধে মাগুরাসহ দেশের বিভিন্ন থানা ও আদালতে অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর মাগুরা সদর থানার মামলা নং-২৫, ধারা ৩০২/৩৪। ২০২৬ সালের ১লা মে মাগুরা সদর থানার মামলা নং-০২, ধারা- ১৪৩/ ৩৪১/ ৪৪৮/ ৩২৩/ ৩২৪/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৪২৭/ ১১৪। মাগুরা সদর থানার মামলা নং-৩২/২২, ধারা- ১৪৩/ ৩৪১/ ৪৪৮/ ৩২৩/ ৩২৪/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৪২৭/ ১১৪। মাগুরা জজ আদালতে জিআর-১৮৩/ ২৬। জিআর-৪৯৮/২৪, বিএনপির নেতা ও কর্মীর সব যোগ্যতা থাকতেও তাদের ডিলারশিপ না দিয়ে বাড়তি অর্থ নিয়ে নীতিমালায় পড়ে না এমন লোকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে মর্মে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাগুরায় ডিলারশীপকে কেন্দ্র করে যেকোন সময়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সৃষ্টি হতেপারে।




