১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিয়েভে জার্মান চ্যান্সেলরের সফরের মধ্যেই রাশিয়ার নিরাপত্তা ঘটনায়

প্রকাশ:

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের আকস্মিক কিয়েভ সফরের দিনটিতেই ইউক্রেনের রাজধানীতে তীব্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চ্যান্সেলর পৌঁছানোর পরপরই শহরে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে এবং বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। রুশ ড্রোন হামলার সতর্কতার কিছুক্ষণ পরই কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো নিশ্চিত করেন যে, শহরের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের সংযোগকারী নর্দান ব্রিজের একটি অংশে রুশ হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে নিপ্রো নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুতে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত ও সেখান থেকে আগুনের কুণ্ডলী দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো, স্কুল, আবাসিক এলাকা এবং জ্বালানি কেন্দ্র লক্ষ্য করে রাশিয়া নিরবচ্ছিন্ন হামলা চালাচ্ছে। এর মধ্যেই কিয়েভের অদূরে একটি গোলাবারুদের গুদামে রাশিয়ার অন্য একটি হামলায় ৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া রাজধানীর অভ্যন্তরে পৃথক হামলায় এক ভারতীয় নাগরিকসহ আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বার্তা আদান–প্রদানের বিভিন্ন অ্যাপের চ্যানেলে প্রকাশিত ছবিতে সেতুটির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে এবং সেখান থেকে আগুনের গোলা উঠতে দেখা গেছে।

কিয়েভে সফররত জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইউক্রেনের প্রতি দৃঢ় সংহতি জানিয়ে বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনকে সব ধরনের সমর্থন দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়াকে এখনই থামানো না গেলে ভবিষ্যতে তাদের যুদ্ধের আগ্রাসন ইউরোপের অন্যান্য দেশের দিকেও ধাবিত হতে পারে। জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাওয়া এই চ্যান্সেলরের সফরে ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের নতুন সামরিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

জার্মান সরকারি সূত্রের তথ্যমতে, নতুন এই সহায়তা প্যাকেজে ড্রোন, উন্নত স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকবে, যা রাশিয়ার ড্রোন উৎক্ষেপণস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করতে ইউক্রেনকে কার্যকর সহায়তা করবে। এ ছাড়া জার্মানি ও ইউক্রেনের মধ্যে যৌথ উদ্যোগে জেটচালিত ড্রোন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের কাছে দ্রুতগতির রুশ ড্রোন মোকাবিলায় আরও কার্যকর সামরিক সহায়তা চেয়েছেন। তিনি মনে করছেন, উন্নত প্রতিরোধব্যবস্থা ছাড়া রাশিয়ার বর্তমান আক্রমণাত্মক ড্রোন হামলা প্রতিহত করা কঠিন। এই সহায়তা দ্রুত পৌঁছালে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে করছে জার্মান কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার করুন