অস্থির রাজধানীর কাঁচাবাজার, নিত্যপণ্যের দামে চরম উত্তাপ

প্রকাশ:

রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। রামপুরা, খিলগাঁও, তালতলা ও মালিবাগ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ কেনাকাটা করতে এসে চরম বিপাকে পড়ছেন।

বাজারে দাম বাড়ার শীর্ষে রয়েছে কাঁচামরিচ। তালতলা বাজারে বিক্রেতা রাকিব হোসেন জানান, দুদিন আগেও যে মরিচ ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে, তা এখন ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বন্যা ও বৃষ্টির আগে এর দাম ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। ক্রেতা জহুরুল ইসলাম জানান, আগে ৩০ টাকায় ২৫০ গ্রাম মরিচ পাওয়া গেলেও এখন সেই টাকায় মাত্র ১০০ গ্রাম মরিচ মিলছে। বাজারের বাইরের ভ্যানেও প্রতি পোয়া মরিচের দাম ৭০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।

সবজির বাজারে ৮০ টাকার নিচে পণ্য পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। পেঁপে ৪০ টাকা ও পটল ৬০ টাকা ছাড়া অধিকাংশ সবজিই ১০০ টাকার কাছাকাছি দামে বিক্রি হচ্ছে। রামপুরা বাজারে বেগুন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ১২০ টাকা এবং শসা ও গাজর ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে পেঁয়াজের দাম এক লাফে ২৫ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে ভালো মানের পেঁয়াজ ৬০ টাকা এবং ছোট আকারের পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি পাল্লা (পাঁচ কেজি) পেঁয়াজ ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, পাবনা, ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া থেকে আসা পেঁয়াজের সরবরাহ মোকামেই চড়া হওয়ায় খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে।

ডিম ও মুরগির বাজারও উত্তপ্ত। ফার্মের মুরগির ডিম ডজনপ্রতি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগে ছিল ১৩০ টাকা এবং দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১২০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দাম ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ থেকে ২১০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। টানা অতিবৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে সরবরাহ কমে যাওয়ায় রুই মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কিছুদিন আগেও ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা ছিল। তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চাষের চিংড়ি ৯০০ থেকে ১,২০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং ইলিশ মাছ ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টির দোহাই দিয়ে সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শেয়ার করুন