নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের দিয়ে শিক্ষকদের শরীর ও মাথা ম্যাসাজ করিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১০ দিনের ব্যবধানে দুটি পৃথক ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাগুলো উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার তদারকি ও নৈতিক মানদণ্ড নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
সর্বশেষ গত ৫ জুলাই উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের চারঘুরি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা কাজলী আক্তার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মিশকাত মৌকে দিয়ে শ্রেণিকক্ষেই শরীর ম্যাসাজ করিয়ে নেন। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামিয়ার রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ প্রধান শিক্ষকসহ চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে শোকজ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এর আগে গত ২৫ জুন খগা বড়বাড়ী বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে একই ধরনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই বিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মীয় শিক্ষিকা তিলোত্তমা রানী রায় (কাব্যতীর্থ) নিয়মিত পাঠদান বাদ দিয়ে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে তার শরীর ও মাথা ম্যাসাজ করিয়ে নিতেন। এ ঘটনায় ৬ জুলাই অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মারুফা বেগম লিজা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে ওই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়রা প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
খগা বড়বাড়ী বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনার তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবিরকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার আমির হামজা বোরহান উদ্দিন ও ব্যানবেইস কর্মকর্তা শাহানুর আলম। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়গুলোতে জবাবদিহিতার অভাব এবং নিয়মিত তদারকি না থাকায় শিক্ষকরা দায়িত্বের চেয়ে ব্যক্তিগত সুবিধাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, অনেক শিক্ষক নিজেদের সন্তানদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ান বলে সরকারি বিদ্যালয়ে পাঠদানের মানোন্নয়নে আন্তরিক নন। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত সেবা করানো শিক্ষকতার নৈতিকতা, সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি এবং শিশুর মর্যাদা ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।





