শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন কারাগারে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অস্থিরতার ঘটনাগুলো সমন্বিতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করছে। সরকার একে পরিকল্পিত নাশকতা এবং বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজন বন্দি নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার পার্লামেন্টে দেশটির জননিরাপত্তা মন্ত্রী আনন্দ উইজেপালা জানান, নেগোম্বো, মাহারা, ম্যাগাজিন, কুরুভিটা এবং পাল্লানসেনা কারাগারে সম্প্রতি সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, “সব ঘটনা একসঙ্গে বিবেচনা করলে এগুলো পরিকল্পিত নাশকতা এবং একটি ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে হচ্ছে।” প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, মাদক ও অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ড এসব অস্থিরতার তাৎক্ষণিক কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার পাল্লানসেনা কারাগারে বন্দিরা ছাদে উঠে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে হয়। তবে এই বিক্ষোভের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। একই দিন কুরুভিটা কারাগারেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। কুরুভিটার ঘটনায় অন্তত দুইজন নিহত এবং এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় জ্যেষ্ঠ এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ সেখানেও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে, তবে অস্থিরতার সূত্রপাত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ম্যাগাজিন কারাগারে প্রায় ৪০ জন বন্দি একটি ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে পড়েন। ওই ঘটনায় একজন বন্দি নিহত হন এবং আরও ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব ঘটনার পেছনে একই ধরনের পরিকল্পনা বা সমন্বিত কোনো কর্মকাণ্ড রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বর্তমানে তদন্ত চলছে।





