উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক জোটের ওপর নির্ভর করে থাকা যাবে না বলে মন্তব্য করেছে কাতার। আবুধাবিতে আয়োজিত হিলি ফোরামে বক্তব্য রাখার সময় কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
মুখপাত্র জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি কেবল এর ওপর ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনই সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র কার্যকর পথ। মিত্র ও অংশীদারদের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি তাদের ওপর অর্পণ করা যৌক্তিক নয়।
কাতার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। গ্যাসসমৃদ্ধ এই দেশটি নিজে বারবার ইরানের হামলার শিকার হয়েছে, বিশেষ করে তাদের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঘটনায় বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও আয়তনে ছোট, তবুও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি কাতারে অবস্থিত।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত একটি অচলাবস্থায় রয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে এবং এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে পাল্টা অবরোধ জোরদার করেছে। মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে গত মাসে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি তেহরান সফর করেছেন। এছাড়া ওমান ও ইরান হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী নৌপথ চালু এবং সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।





