রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে। পদত্যাগের কারণ হিসেবে অসুস্থতাকে উল্লেখ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই জল্পনার মধ্যেই তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের জন্য বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও আলোচনা চলছে। রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বার্তা পাঠানো সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের সঙ্গে কথা হয়, যেখানে খুব শিগগির রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও ক্ষমতাসীন বিএনপির উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে হঠাৎ করে আলোচনায় এসেছে। যদিও এর আগে এ পদের জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় ছিল।
মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে কে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তিনি আরও বলেন, ‘আর এমন কিছু ঘটলে (রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ) শূন্য পদে অনেক নামই আলোচিত হবে, এটাই স্বাভাবিক।’
যদিও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তার অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সূত্রের ভাষ্যমতে, পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।
প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা—এসব বিবেচনা থেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেশি শোনা যাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে দল ও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আরও আলোচনা করবেন। ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হবে। সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও তাই গুরুত্ব পাচ্ছে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।
অন্যদিকে, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার নামে অঙ্গীকার ভঙ্গ করে বিদেশে থিতু হওয়া শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়ছে। এদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাওনা শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফয়সাল জামাল মাস্টার্স করতে যুক্তরাষ্ট্রে যান ২০১৫ সালে, এক দশক পেরোলেও ফেরেননি। তার কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক জিসান আহমেদ ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আর ফেরেননি, তার কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ৩৭ লাখ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা ছুটিতে যাওয়ার আগে প্রত্যেক শিক্ষককে বন্ডে সই করতে হয়—ছুটি শেষে অবশ্যই কর্মস্থলে ফিরবেন। এই শর্তে তারা ছুটিকালীন বেতন-ভাতা ও বোনাস নিলেও বাস্তবে দেশে ফিরছেন না। বারবার চিঠি দিয়েও সাড়া মিলছে না। এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে প্রশাসনের উদাসীনতা ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ রয়েছে।
ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর আওয়ামীপন্থি শিক্ষকের একটি বড় অংশ উচ্চশিক্ষার বাহানায় বিদেশে চলে গেছেন। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে প্রবাসে থাকার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করেছেন। আগে থেকেই আওয়ামীপন্থি যেসব শিক্ষক প্রবাসে ছিলেন তারাও দেশে ফিরছেন না। এছাড়া, নিয়োগের পর স্বাভাবিক নিয়মেই উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এমন শিক্ষকদের সংখ্যাও কম নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত সহস্রাধিক শিক্ষক বর্তমানে বিদেশে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা ও গবেষণায় ব্যাঘাত ঘটছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২২ সালের তথ্যমতে, বিশ্বের ১৬টি দেশের ১৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩২২ জন শিক্ষক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের অনেকে দেশে ফিরলেও নতুন করে আরও অনেকে বিদেশে গেছেন। তবে বর্তমানে ঢাবির কতজন শিক্ষক দেশের বাইরে আছেন তার সঠিক তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়নি। স্বৈরাচারী শাসনের পক্ষে অবস্থানসহ নানা কারণে বিভিন্ন বিভাগের ৩৬ জন শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১৩২ জন শিক্ষক বর্তমানে শিক্ষা ছুটিতে দেশের বাইরে রয়েছেন। তবে ছুটি শেষ হলেও কর্মস্থলে যোগ দেননি ২৮ জন শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকা এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ কোটি টাকারও বেশি পাওনা রয়েছে বলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ বারবার চিঠি দিলেও তারা সাড়া দিচ্ছেন না। বকেয়া টাকা আদায়ের ব্যাপারে অর্থ ও হিসাব দপ্তর এবং রেজিস্ট্রার দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা লক্ষ করা গেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে থাকা শতাধিক শিক্ষকের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফেরেননি ২৪ জন। ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিদেশে যাওয়া এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি। সবচেয়ে বেশি বকেয়া দর্শন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফয়সাল জামালের, তার কাছে পাওনা ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার ১৮০ টাকা। তিনি ২০১৫ সালে মাস্টার্সের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। ২০২২ সালের জুনে তিনি দেশে ফিরে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন করে আবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ৮১ শিক্ষক শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন। ছুটি শেষ হওয়ার পরও ৬৮ জন দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বিদেশে অবস্থানরত এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট পাওনা ৪ কোটি ২৮ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭৭ টাকা। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করায় ৪৪ শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বাকি ৫ জনের নামে মামলা চলমান।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ৪২১ শিক্ষকের মধ্যে ১২২ জনই শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন। একই সঙ্গে পিএইচডি করতে গিয়ে দেশে ফিরে না এসে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন অন্তত ১৫ শিক্ষক। নির্ধারিত ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ৮ জন শিক্ষক এখনো যোগ দেননি। তাদের মধ্যে একজনের বেতন বন্ধ থাকলেও বাকি ৭ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন-ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন। তাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাওনা ২ কোটি ১ লাখ ১৩ হাজার ৮২১ টাকা।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ১৮ শিক্ষক শিক্ষা ছুটি শেষেও ক্যাম্পাসে ফেরেননি। এদের মধ্যে ১৪ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪ শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যথাযথ জবাব না পেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ৩৯ শিক্ষক শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে গেলেও কর্মস্থলে ফেরেননি। ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী বলেন, শিক্ষকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা প্রায় ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, যোগদান না করায় ১৪ জনের নামে মামলা চলছে। সাত-আটজন চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাদের কাছে পাওনা অর্থ ফেরতের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশে তীব্র গ্যাসসংকট দেখা দিয়েছে। জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক ও সিএনজি খাতে গ্যাসচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে এবং ব্যাহত হচ্ছে শিল্প-কারখানার কার্যক্রম। সিএনজি স্টেশনে গ্যাস না পেয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনও করেছেন চালকরা।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই গ্যাস নিতে শত শত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। গ্যাসসংকটের প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে রাজধানীর খিলক্ষেতে বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা, এতে ওই এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। অবরোধে অংশ নেওয়া চালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাইনি। এতে আমাদের দৈনিক আয় ব্যাহত হচ্ছে। জমা ও অন্যান্য খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাস সংগ্রহ করতেই দিনের বেশির ভাগ সময় চলে যাচ্ছে।’
গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় আবাসিক গ্রাহকদের চুলায় আগুন জ্বলছে না। কোথাও কোথাও গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, বেকারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও স্বল্প চাপের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে। শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না থাকায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে হয়েছে। এতে রপ্তানিমুখী শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী জানান, মন্ত্রণালয় গ্যাসসংকটের বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে, দুটি এফএসআরইউর একটিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মেরামতের কাজ করছেন। এটি সাময়িক সমস্যা এবং দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, অথচ সরবরাহ করা যাচ্ছে দুই হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই ঘাটতি দীর্ঘদিনের হলেও সরকার তা কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
মনির হোসেন চৌধুরী আরো জানান, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি হলেও দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা পরিস্থিতি আরো জটিল করেছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন পর্যাপ্ত না হওয়ায় এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো অংশে সমস্যা দেখা দিলেই জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা চাপে পড়ে। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১০০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জে ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি নতুন গ্যাসকূপ খনন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
তিনি আরো জানান, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৩১ দিনের ডিজেল, ৩৬ দিনের অকটেন, ২০ দিনের পেট্রল, ২৫ দিনের ফার্নেস অয়েল এবং ২০ দিনের জেট ফুয়েলের মজুদ রয়েছে। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আরো এক লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছবে এবং আগস্টে আসবে আরও দুই লাখ ৪০ হাজার টন ডিজেল। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ জ্বালানি তেলের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।
অন্যদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্যবইয়ের অনুশীলন অংশ শ্রেণিকক্ষে সম্পন্ন করানোর নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ শিক্ষক তা অনুসরণ করছেন না। বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘নিজে করি, দেখি পারি কিনা’ কার্যত চর্চার বাইরে থাকছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দেশের ২০ জেলার ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সাম্প্রতিক মাঠ পর্যায়ের মূল্যায়নে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এনসিটিবির কর্মকর্তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি পঠন (রিডিং) দক্ষতায় সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, তার মুখ্য কারণ হলো পাঠ্যবইয়ের অনুশীলন অংশের বিষয়ে গুরুত্ব না দেওয়া। তবে শিক্ষাবিদরা বলছেন, বিষয়টিকে একক কোনো কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না; শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, শিক্ষণ পদ্ধতি, শিক্ষার্থীর পারিবারিক সহায়তা, মূল্যায়ন ব্যবস্থাসহ নানা বিষয় এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৩৬টি পাঠ্যবইয়ের মান যাচাইয়ে সম্প্রতি দেশের ২০ জেলার ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এনসিটিবির কর্মকর্তারা। দেখা যায়, কোনো বিদ্যালয়েই শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের অনুশীলন অংশ চর্চা করছে না এবং শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের দিয়ে এ অংশ সম্পন্ন করাচ্ছেন না। এনসিটিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যদি প্রাথমিকের পাঁচ বছর নিয়মিত অনুশীলন অংশ সম্পন্ন করে, তাহলে পরবর্তী শ্রেণিতে গিয়ে রিডিং বা লিখন দক্ষতায় বড় ঘাটতি থাকার কথা নয়। বাস্তবে সেই ঘাটতি রয়েছে, তাই শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে ঘাটতি রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।
১৫ বছরেও দেশে ফেরেননি জাবির ২৪ শিক্ষক: জাবি প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম জানান, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে আছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শতাধিক শিক্ষক। এর মধ্যে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফেরেননি ২৪ শিক্ষক। ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিদেশে যাওয়া এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি। সবচেয়ে বেশি বকেয়া দর্শন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফয়সাল জামালের। তার কাছে পাওনা ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার ১৮০ টাকা। তিনি ২০১৫ সালে মাস্টার্সের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। ২০২২ সালের জুনে তিনি দেশে ফিরে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন করে আবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এছাড়া হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক প্রবাল দত্তের কাছে পাওনা ৪৮ লাখ ৫২ হাজার ১৭ টাকা। পরিসংখ্যান ও ডেটা সায়েন্স বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. তারেক ফেরদৌস খানের কাছে পাওনা ৪৪ লাখ ৯ হাজার ৩২৬ টাকা। একই বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আজিজুর রহমানের কাছে পাওনা ৪৪ লাখ ৫২ হাজার ৫৭১ টাকা। গণিত বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক একেএম ফজলুর রহমানের কাছে পাওনা ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৫২২ টাকা।





