দেশের বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিংভিত্তিক জনবল সরবরাহের কাজ করে আসা পিমা এসোসিয়েটস লিমিটেড এবং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন দুলালের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং চাকরি দেওয়ার নাম করে ঘুষ নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া শ্রমিকদের বেতনের টাকা কেটে রাখা এবং চাকরি নবায়নের জন্য চাঁদাবাজিরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের মতে, পিমা এসোসিয়েটস সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং নানা অজুহাতে কর্মীদের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৬ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের টেন্ডার পায় পিমা এসোসিয়েটস। তৎকালীন অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মীদের বেতন ১৪ হাজার ৫৫০ টাকা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধের কথা থাকলেও দুলাল তা অমান্য করেন। তিনি কর্মীদের মাত্র ৭ হাজার টাকা নগদ প্রদান করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আন্দোলন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি।
২০২৫ সালে অর্থমন্ত্রণালয় আউটসোর্সিং সেবার মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নীতিমালা প্রণয়ন করলেও তা মানার বালাই নেই পিমা এসোসিয়েটসের। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টেন্ডারের মাধ্যমে ৩৬ জন কর্মী নিয়োগের সময়ও অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়। দীর্ঘ ৮ থেকে ১৬ বছর ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত অভিজ্ঞ ১৬ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে বাদ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নতুনদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে ঠিকাদার দুলাল গণমাধ্যমকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি হামলা-মামলার ভয় দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটেও (আইপিএইচ) ১২৭ জন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে জনপ্রতি এক থেকে দেড় লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে পিমা এসোসিয়েটসের বিরুদ্ধে। বর্তমানে সেই কর্মীদের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকায় নবায়নের জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে আরও ৫ হাজার টাকা করে দাবি করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫ শতাংশ কমিশন পেলেও কর্মীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে দেলোয়ার হোসেন দুলাল কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত ২৩ জুলাই মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসন শাখা-১ এর উপসচিব সুজিৎ দেবনাথ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি অধিদপ্তরের শৃঙ্খলা শাখায় উত্থাপিত হয়েছে এবং তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শ্রম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আউটসোর্সিং খাতে স্বচ্ছতা ফেরাতে নিয়মিত তদারকি, শ্রম আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং কর্মীদের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি।





