জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা ‘অসদাচরণ’ সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার এনবিআরের কর প্রশাসন-২ শাখার তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
অব্যাহতি পাওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন ঢাকা আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর পরিদর্শক মো. আবদুল্লাহ-আল-মামুন এবং কর অঞ্চল-৬-এর কর পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২২ জুন এনবিআরের পাঁচজন উপ-কর কমিশনারের বদলির আদেশ গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এরপর তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছিল। এনবিআরের প্রথম সচিব (কর নীতি) মো. জাফর ইমামকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলে, তিনি তার প্রতিবেদনে জানান যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘অকাট্যরূপে প্রমাণ হয়নি’। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি ও বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিনে এনবিআরের গাজীপুর কর অঞ্চলের (সার্কেল-১০) কর পরিদর্শক কাজী নুরে সোহেলাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘ ১৪ মাস বিনা ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। স্বামীর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও, নির্ধারিত সময় শেষে ৮ আগস্ট কর্মস্থলে যোগ দেননি।
কাজী নুরে সোহেলা ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বিনা বেতনে ছুটির আবেদন করলেও এনবিআর তা নামঞ্জুর করে তাকে কাজে ফেরার নির্দেশ দিয়েছিল। কর্তৃপক্ষের সেই নির্দেশ অমান্য করে দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সুপারিশের ভিত্তিতে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এই অপসারণের আদেশ জারি করেন।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে এনবিআর সংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করেছিল অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রকাশ্যে বদলি আদেশ ছিঁড়ে ফেলাসহ নানা অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, যা রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বাতিল করা হয়।





