‘বুদ্ধিজীবী নকশাল’ নিয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

প্রকাশ:

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন যে, গত কয়েক দশক ধরে চলা মাওবাদী বিদ্রোহের বড় একটি অংশ নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে তার দেশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, সশস্ত্র নকশালদের হাত থেকে দেশ অনেকটাই মুক্ত হয়েছে। তবে তিনি একইসঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘দিমাগি নকশাল’ বা ‘বুদ্ধিজীবী নকশাল’রা এখনো সহিংসতা ছড়ানোর সুযোগ খুঁজছে এবং তাদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করা প্রয়োজন।

ভারতের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানো মাওবাদী-প্রভাবিত নকশাল আন্দোলনের সদস্যদের বোঝাতে মোদি ‘নকশাল’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তার ব্যবহৃত ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধটি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ‘আরবান নকশাল’ শব্দটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। অতীতে মোদি ও তার দল ভারতীয় জনতা পার্টির নেতারা আন্দোলনকর্মী, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং সরকারের সমালোচকদের বোঝাতে এই ‘আরবান নকশাল’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মোদির এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন কয়েক সপ্তাহ আগে তরুণদের নেতৃত্বে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি প্রতিবাদী আন্দোলন সরকারের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল এবং চাপের মুখে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। তবে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মোদি ওই বিক্ষোভের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে তরুণদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রশিক্ষণ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিংয়ের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদি দাবি করেন, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর তার সরকারের নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক নীতির ফলে মাওবাদী সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি বলেন, মাওবাদী আন্দোলন কয়েক প্রজন্মের তরুণের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে ভারত ‘ভঙ্গুর’ অর্থনীতি থেকে বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে এবং ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে রূপান্তরের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে পূর্ব ভারতের নকশালবাড়ি গ্রামে ভূমিহীন কৃষক ও আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবির মধ্য দিয়ে এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। কয়েক দশক ধরে চলা এই সশস্ত্র বিদ্রোহে হাজারো বেসামরিক নাগরিক, বিদ্রোহী ও নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘকাল ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন, রাষ্ট্রদ্রোহ-সংক্রান্ত বিধান এবং বিদেশি অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণের নিয়ম ব্যবহার করে নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক ও সমালোচকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

শেয়ার করুন