বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর নীরবতা ভাঙলেন লিওনেল মেসি

প্রকাশ:

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের রেশ এখনো কাটেনি লিওনেল মেসির। পরাজয়ের একদিন পর সোমবার নিজের ইনস্টাগ্রাম পেজে স্প্যানিশ ভাষায় একটি আবেগঘন বিবৃতি প্রকাশ করেছেন তিনি। মেসি লিখেছেন, পরাজয়ের কষ্ট অনেক গভীর এবং এই ক্ষত সারতে সময় প্রয়োজন। তবে তিনি পরাজয়ের গ্লানির চেয়ে ইতিবাচক স্মৃতিগুলোকেই ধরে রাখতে চেয়েছেন। মেসি উল্লেখ করেন, পুরো দেশের সমর্থন এবং দলের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা আবারও বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা যে কোনো দলের জন্যই বড় অর্জন বলে তিনি মনে করেন।

আর্জেন্টাইন হওয়ার গর্বের কথা স্মরণ করে মেসি তার সতীর্থদের পাশাপাশি প্রতিটি সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য স্পেন দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। যদিও মেসির এই বার্তাটি ছিল বিনয়ী ও আবেগপূর্ণ, তবে রোববারের ফাইনাল ম্যাচটির পরিবেশ ছিল উত্তপ্ত। ১-০ গোলে স্পেনের জয়ের পর মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। যদিও মেসি সেই ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন না, তবুও জানা গেছে যে ফিফা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।

এই ফাইনালটি মেসির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রানার্সআপ পদক নেওয়ার সময় তাকে কান্না চেপে মাঠ ছাড়তে দেখা যায়, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপনী সংকেত হিসেবেই দেখছেন অনেকে। যদিও পরের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক আর্জেন্টিনা, কিন্তু তখন মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর, যা পেশাদার ফুটবলের বিবেচনায় অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। বয়সের ভার সত্ত্বেও এই আসরে মেসি নিজের সেরাটা দিয়েছেন এবং গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়েও ছিলেন। মেসির ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ছাড়া আর্জেন্টিনার পক্ষে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানো কঠিন হতো। তবে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার আক্ষেপ তার বার্তার প্রতিটি ছত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বয়স হলেও ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের সেরাটাই দিয়েছেন মেসি। এই আসরে অনেক রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এমনকি গোল্ডেন বুট জেতার লড়াইয়েও ছিলেন তিনি। মেসি আর তার শেষ মুহূর্তের নৈপুণ্য না থাকলে, ফাইনালের অনেক আগেই হয়তো বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেত আর্জেন্টিনা।

শেয়ার করুন