দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে জনশক্তি রপ্তানির সাথে জড়িত বায়রার আড়াই সহস্রাধিক ব্যবসায়ী ব্যাপক হতাশ ও ক্ষুব্ধ। সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে বারবার সিন্ডিকেটমুক্ত শ্রমবাজারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে আবারো সেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই বাজার খোলার ঘোষণা এসেছে।
বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস (FWCMS)-এর সফটওয়্যারে মালয়েশিয়া সরকার ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। একই সাথে কর্মী স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ৩৮টি মেডিক্যাল সেন্টারের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তালিকায় থাকা অধিকাংশ এজেন্সি ও মেডিক্যাল সেন্টার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলের পুরনো সিন্ডিকেটের সদস্য। ব্যবসায়ীদের মতে, এই এজেন্সিগুলোর নিজস্ব অফিস চালানোর মতো সক্ষমতা নেই এবং প্রভাবশালী মহলের ম্যানেজমেন্টেই তাদের নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
শ্রমবাজার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, গতবারের মতো এবারও কর্মীদের নির্দিষ্ট অংকের ‘হাদিয়া’ বা অদৃশ্য টাকা দিতে হবে। গতবার এই অংক জনপ্রতি ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা থাকলেও এবার তা কমিয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। এই গোপন ফর্মুলা বেস্টিনেট কোম্পানির কর্ণধার দাতো শ্রী আমিন নুর ও তার এদেশীয় সহযোগী রুহুল আমিন স্বপনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ার দাতো আমিনকে প্রতি কর্মীর জন্য ৪ হাজার রিংগিত এবং ঢাকায় মনোনীত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে ২৫ হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী জানান, সিন্ডিকেট ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, আগামী বুধবার থেকেই কর্মী নিয়োগের এলোকেশন শুরু হয়ে পারে, যদিও এখন পর্যন্ত ২৫টি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানকে আইডি ও পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়নি। এছাড়া আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সিস্টেম কার্যকর থাকবে এবং জানুয়ারি থেকে ‘তুরাব’ নামক নতুন সিস্টেমে কর্মী পাঠানো হবে, যা দাতো আমিন নুরেরই সফটওয়্যার।
পুরনো সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত এক সদস্য দাবি করেছেন, সিন্ডিকেটের সদস্যদের দুই জায়গায় টাকা দিতে হবে। মালয়েশিয়ায় দাতো আমিনকে এপ্রুভাল ও সফটওয়্যার বাবদ মোট ৬ হাজার রিংগিত এবং এরপর কাজ কেনার জন্য আরও ৭-৮ হাজার রিংগিত ব্যয় করতে হবে। এদিকে, ভিসা ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা পাচারের আশঙ্কা করছেন অনেক ব্যবসায়ী। তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ী চান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দ্রুত শ্রমবাজারটি সচল হোক যাতে কর্মীরা বিদেশে গিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন।





