২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কি মে মাসের আগে সম্ভব?

প্রকাশ:

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তারিখ নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। ইসি আগামী ১২ নভেম্বর থেকে নির্বাচন শুরুর প্রাথমিক পরিকল্পনা করলেও, বিভিন্ন পরীক্ষা ও ধর্মীয় উৎসবের সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে এই ভোট আগামী মে মাসের আগে হওয়ার সম্ভাবনা কম দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার জন্য আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা ডাকা হয়েছে। এই সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, নৌপরিবহন, পররাষ্ট্র, অর্থ, তথ্য ও সম্প্রচার, স্থানীয় সরকার এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন যে সময়সূচি ঘোষণা করেছিল, সে বিষয়ে সরকার বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অবহিত নয়। তিনি জানান, সময়সূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো চিঠি আদান-প্রদান বা আলোচনা হয়নি। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনা, প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা ও বাজেটের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়। ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, ঘোষিত তারিখগুলো একেবারেই প্রাথমিক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত সাপেক্ষে কমিশন তা চূড়ান্ত করবে।

সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা, এসএসসি পরীক্ষা এবং রমজান ও ঈদের সময়সূচি ভোটের সময় নির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে শেষ হওয়ার কথা। এছাড়া আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান এবং ১০ মার্চ ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ১৪ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে এবং রমজান ও ঈদের সময় নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে নয় সরকার।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ গত সোমবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সাতটি ধাপের তারিখ জানিয়েছিলেন, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ১২ নভেম্বর ভোটের পরিকল্পনা ছিল। ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনায় দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর ও তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের কথা বলা হয়। পরবর্তী চার ধাপের সম্ভাব্য তারিখ রাখা হয় আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২২ এপ্রিল ও ২৭ মে।

দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এসব ইউনিয়নে সর্বশেষ বড় পরিসরে কয়েক ধাপে নির্বাচন হয় ২০২১-২২ সালে। প্রথম ধাপে ২০২১ সালের ২১ জুন ২০৪টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছিল, যার বড় অংশ ছিল বরিশাল বিভাগে। তবে স্থানীয় সরকারের সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের আগের নির্বাচন একই সময়ে হয়নি। উপজেলা পরিষদের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন হয় ২০২৪ সালে এবং জেলা পরিষদের নির্বাচন হয় ২০২২ সালের অক্টোবরে। আবার ২০২৪ সালের আগস্টে ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে অনেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসক দিয়ে চলছে এবং বরিশালের ১৯টি ইউনিয়নে নিয়মিত কাজ চালাতে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, নানা প্রশাসনিক অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। তিনি অনির্বাচিত প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মেয়াদ দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত নির্বাচনী রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। নির্বাচন মে মাস পর্যন্ত পিছিয়ে গেলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পেতে জনগণের অপেক্ষার সময় আরও বাড়বে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না, এ সংক্রান্ত আইনও ইতিমধ্যে সংশোধন হয়েছে।

শেয়ার করুন