তহশিল অফিসে দলিল, পরচা ও খতিয়ান রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে একসময় কঠোর নিয়ম মেনে চলা হতো। কিন্তু বর্তমানে ভূমি প্রশাসনে কর্তার সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে ডিজিটাল পদ্ধতির আড়ালে ম্যানুয়াল ফন্দিফিকির ও জালিয়াতি বৃদ্ধি পেয়েছে। রেকর্ডপত্র যথাস্থানে না থাকা, একজনের জমি অন্যের নামে খতিয়ানভুক্ত করা এবং জরিপকালে শ্রেণী পরিবর্তনের নামে জমি দখলের ঘটনা সাধারণ রায়তদের চরম বিপাকে ফেলেছে। ভূমিদস্যুরা এই সুযোগে জমি দখল ও বেদখল করছে, আর ভূমি কর্মকর্তারা প্রায়ই জমিদারি মনোভাব নিয়ে কাজ করছেন।
এরই একটি উদাহরণ মানিকখালীর হরেন মণ্ডলের পাঁচ বিঘা জমি, যা এসএ থেকে আরএস খতিয়ানে আসার সময় পাঁচ শরিকের নামে এবং বিএস জরিপে মোট ১২ জনের নামে রেকর্ড হয়েছে। এর ফলে এই ১২ জনের মধ্যে কার কোন অংশ তার চৌহদ্দি বণ্টননামা খতিয়ানে নির্দিষ্ট করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রমজান নগরের নরিম শেখ ও হরিনগরের নগেন মাঝি এই জমি থেকে অংশ কিনে নিলেও, এখন শরিকদের মধ্যে নামজারির জটিলতা ও মামলাবাজির সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যানার্জি পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতিও যেন এই প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার প্রতিচ্ছবি। পরিবারের কর্তা খগেন ব্যানার্জি ও তার স্ত্রী সুশীলা দেবী ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের আট ভাই ও পাঁচ বোনের এই সংসারে সম্পদ বণ্টন নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। খগেনের বড় মেয়ে নবনীতা, যিনি আইন ও সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর, এই সম্পদ বণ্টনের প্রক্রিয়াকে পরগনার সৌভাগ্য প্রতিপক্ষের কাছে বিলিয়ে দেওয়ার শামিল বলে মনে করেন। তবে পারিবারিক কড়াকড়ির কারণে তিনি স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছেন না।
খগেন ব্যানার্জি নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে এবং পরিবারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সুযোগে পার্শ্ববর্তী শক্তিশালী প্রতিবেশী পরান সরকারের সাথে আঁতাত করছেন। নিজের পৈতৃক সম্পত্তি ও বন উজাড়ের ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে তিনি পরান বাবুর পুতুলে পরিণত হয়েছেন। এমনকি পরিবারের সবার অমতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বিষয়েও তিনি সাঙ্গোপাঙ্গদের দায়িত্ব দিয়ে বড় বড় পদবি ও এনাম প্রদান করেছেন। প্রতিবেশী পরান সরকারের সাথে খগেনের এই দহরম-মহরমের কারণে অন্যান্য শরিকরা বিচার পাওয়ার পথ হারিয়েছে। খগেন এখন নিজের ও পরিবারের জন্য দেউলিয়া পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন, যেখানে ব্যানার্জি পরিবারের খাল-বিলের পানি পাওয়ার পথও রুদ্ধ হয়েছে।




