ভোলার লালমোহন পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য কোনো স্থায়ী ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় পৌর কর্তৃপক্ষ হেলিপ্যাডকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করেছে। বর্তমানে এই হেলিপ্যাডের ওপরই পৌরসভার যাবতীয় ময়লা ফেলা হচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের জন্য অসহনীয় দুর্গন্ধের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফিউল্যাহ, হাছানুজ্জামান ও রাশেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, যেখানে হেলিকপ্টার অবতরণ ও উড্ডয়ন করার কথা, সেখানে পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে। এর দুর্গন্ধে ওই এলাকায় বসবাস করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া ময়লার স্তূপের কারণে জরুরি মুহূর্তে হেলিপ্যাডে হেলিকপ্টার ওঠা-নামা করা আর সম্ভব হবে না বলে এলাকাবাসী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ময়লার ভাগাড়ের কারণে এলাকাটিতে কুকুরের উপদ্রবও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। খাবারের সন্ধানে আসা কুকুরগুলো মানুষের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগিকে কামড়াচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, তারা বেশ কয়েকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরপ্রশাসককে হেলিপ্যাডে ময়লা না ফেলার জন্য অনুরোধ করলেও কোনো প্রতিকার পাননি।
প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় নিজস্ব ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করার দাবি দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের পৌরপ্রশাসক জমি কিনে ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। নতুন প্রশাসক দায়িত্ব নিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরপ্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, হেলিপ্যাডে ময়লা ফেলার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় বাধ্য হয়েই এটি করা হচ্ছে। তিনি জানান, জমি ক্রয় ও ডাম্পিং স্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বাতিল করে সরকারি খাস জমি খুঁজে পুনরায় প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে বলে তিনি জানান।





