কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের চার সদস্যের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাতে মরদেহগুলো কুষ্টিয়ায় নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজন, সহকর্মী ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়।
শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার শিশুপুত্র শর্ণশীষ দত্তের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হয়। অন্যদিকে, একই রাতে রাত ২টা ৩০ মিনিটে কুষ্টিয়া শহরের কুঠিপাড়ায় অবস্থিত সদর উপজেলা মডেল মসজিদে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা সিম্মিন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাদের কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন করা হয়। শেষ বিদায়ে অংশ নিতে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ ছুটে আসেন।
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন-অর রশিদ নিহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে সৎকার ও দাফন খরচ বাবদ জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে তুলে দেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট দেবাশীষ দত্ত তার স্ত্রী আফসানা সিম্মিন ও শিশুপুত্রকে নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতের বেঙ্গালুরু যান। নারায়ণা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিমানযোগে কলকাতায় পৌঁছান তারা। সেখানে রাত্রিযাপনের জন্য তারা মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ওঠেন। ১৯ আগস্ট (বুধবার) তাদের কুষ্টিয়ায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ১৮ আগস্ট মধ্যরাতে হোটেলটিতে এসি বিস্ফোরণে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তারা চারজনই নিহত হন।
নিহত দেবাশীষ দত্ত চ্যানেল নাইন ও জাতীয় দৈনিক আজকের কাগজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। তার শ্বশুর আকরাম হোসেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কুষ্টিয়া শাখার কর্মচারী ছিলেন এবং ২০২০ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি গত ৫ আগস্ট ছোট জামাই ফিরোজের চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন। ১৬ আগস্ট তিনি মেয়ে-জামাই দেবাশীষের কাছে থেকে যান এবং ছোট জামাই ফিরোজ বাংলাদেশে ফিরে আসেন।





