ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

প্রকাশ:

রাষ্ট্রবিরোধী গোপন অপতৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে তথ্য, কথোপকথনের স্ক্রিনশট এবং তাদের কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অন্যান্য প্রমাণাদি চাওয়া হয়েছিল। তবে সংবাদমাধ্যমে ৪৪ জনের কথা উল্লেখ থাকলেও, তালিকা যাচাই-বাছাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫ জন শিক্ষকের নামের মিল পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি বিষয়টি অধিকতর যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের আগে তদন্তাধীন বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশের নিয়ম নেই, তাই এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়। উপাচার্য এখন সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তদন্তে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষকদের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত অর্ডিন্যান্স বা বিধিবিধানের পরিপন্থী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট দেশব্যাপী ৪০৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক মো. ইসরাফুল হক, আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল আইনজীবী ড. মো. সাজ্জাত হোসেন।

শেয়ার করুন