লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের একযোগে হামলা

প্রকাশ:

শনিবার (১৫ আগস্ট) লেবানন ও সিরিয়ার গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী একযোগে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং দক্ষিণ সিরিয়ার কুনেইত্রা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় হামলা চালিয়েছে। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা হুলা এলাকায় আক্রমণ করেছে। এছাড়া যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে টাইর জেলার ওয়াদি আদশিত আল-কুসাইর ও মানসুরি শহরেও হামলা চালানো হয়েছে। আল-মানার সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উপকণ্ঠে হামলা চালানোর পাশাপাশি একটি সামরিক হেলিকপ্টার আলি আল-তাহের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়েছে। এসব হামলায় ফসফরাস শেলসহ নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

একই সময়ে সিরিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কুনেইত্রা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আল-রাফিদ শহরের কৃষিজমিতে বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন হিজবুল্লাহর নেতা শেখ নাইম কাসেম। তিনি এই আলোচনার কাঠামোকে মার্কিন-ইসরায়েলি দাবির কাছে লেবাননের সার্বভৌমত্ব সমর্পণের শামিল বলে অভিহিত করেছেন। নাইম কাসেম লেবানন সরকারকে এই ব্যর্থ ও অপমানজনক প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বরের চুক্তি এখনও কার্যকর রয়েছে এবং তিনি অভিযোগ করেন যে, লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর অস্ত্রসম্ভারকে লক্ষ্যবস্তু করলেও ইসরায়েলের চুক্তি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৪ হাজার ৩৩৫ জন নিহত এবং ১২ হাজার ২৭৭ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ১৫ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

শেয়ার করুন