ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সতর্ক করেছে তেহরান। একই সঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সামরিক সহযোগিতা পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
স্থানীয় সময় ১ আগস্ট শনিবার এক বিবৃতিতে ইরানের যুদ্ধকালীন সামরিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যকে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আবদোল্লাহির দাবি, ওয়াশিংটন এই অঞ্চলের দেশগুলোর ভূখণ্ড, সম্পদ ও অবকাঠামোকে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের ঢাল হিসেবে কাজ করবে, তারাও সংঘাতের প্রভাব থেকে রেহাই পাবে না।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো অনুমোদন দেননি। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা চালালে মার্কিন ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সম্প্রতি ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ইচ্ছার কথা জানালেও, আঞ্চলিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো তাতে সম্মতি দেয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও তাদের মিত্র দেশগুলোর সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। তেহরান হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত চাপ প্রয়োগের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দিলেও, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
২৪ জুলাই তেহরানের আজাদি স্কোয়ারে প্রদর্শিত ইরানে তৈরি যুলিফাগার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশ দিয়ে এক ইরানি দম্পতি সাইকেলে চড়ে যাচ্ছেন। ছবি: এএফপি





