৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘাত নিরসনে কাতারের মাধ্যমে শর্ত পাঠাল ইরান

প্রকাশ:

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে আনুষ্ঠানিক কিছু শর্ত প্রস্তাব করেছে ইরান। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মাসখানেক আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারির দায়িত্ব নেওয়া মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী কাতারের মাধ্যমে শর্তগুলো ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছে এবং এখন তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। ইরান যে সুনির্দিষ্ট শর্তগুলো সামনে এনেছে তার মধ্যে রয়েছে—সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং সমুদ্রপথের সব ধরনের অবরোধ তুলে নেওয়া। রেজায়ি দাবি করেন, ট্রাম্পের হুমকি বা চাপ প্রয়োগে কোনো কাজ হবে না, বরং এই শর্তগুলো মেনে নেওয়াই ওয়াশিংটনের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জরুরি।

ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরও সতর্ক করে জানিয়েছেন, তারা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছেন। সামরিক মূল্যায়নের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে এবং তেহরান তা মোকাবিলায় পুরোপুরি তৈরি। এর আগে দুই দফা সংঘাতের পর ইরান তাদের সামরিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন কৌশলে মার্কিন রণতরী ও যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি এলাকায় সম্প্রতি তারা একাধিক ওয়ারহেডযুক্ত জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। ভবিষ্যতের যেকোনো পাল্টা হামলার তীব্রতা আগের চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বাণিজ্যকেন্দ্র ও কোম্পানিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

উল্লেখ্য যে, গত মাসে উভয় পক্ষের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক বা এমওইউর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর থেকেই কাতার ও পাকিস্তান আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। এই সংঘাত দ্রুত থামবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে রেজায়ি বলেন, বাস্তবে যুদ্ধ এখনো চলমান। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান এই প্রক্রিয়ায় একদিকে কূটনীতির পথ উন্মুক্ত রাখছে, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতিতেও সমান জোর দিচ্ছে, যা তাদের ‘দ্বিমুখী বার্তা’ কৌশলের অংশ।

এই শর্তাবলি নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, সে বিষয়ে পেন্টাগনের আরব উপদ্বীপবিষয়ক সাবেক পরিচালক ডেভিড ডেস রোচেস বলেন, ইরান আগের তুলনায় কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে, আগে ইরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়ের যে দাবি জানিয়েছিল, এবার তারা সেটি বাদ দিয়েছে। তবে রোচেসের মতে, ওয়াশিংটন সম্ভবত একে আলোচনার আন্তরিক সূচনা হিসেবে দেখবে না এবং এটিকে ইরানের একধরনের দুর্বলতা বা আত্মসমর্পণ হিসেবেই গণ্য করতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল শনিবার আল-জাজিরার তেহরান ব্যুরোপ্রধান নুর এদ্দিন এদঘিরকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মোহসেন রেজায়ি এসব কথা বলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোও যুদ্ধের অবসান চায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র আবারও নতুন করে হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেননি রেজায়ি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের মূল নজর এখন মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পারস্য উপসাগর থেকে শুরু করে ওমান উপসাগর ও আরব সাগর পর্যন্ত তাদের নিশানা থাকবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এর বাইরে ভারত মহাসাগরের দিকের লক্ষ্যবস্তুগুলো ইরানের আওতার বাইরে পড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগের মতো এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি স্থানীয় মার্কিন বাণিজ্যিক স্বার্থ ও তাদের কোম্পানিগুলোর ওপরও আঘাত হানা হবে।

শেয়ার করুন