৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: কাতার কর্তৃক তীব্র নিন্দা

প্রকাশ:

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে হুথি বিদ্রোহীদের চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কাতার। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই অবস্থানের কথা জানায়। বিবৃতিতে রিয়াদ ছাড়াও বিশ, তাইফ, ফারাসান এবং ইয়ানবুতে বেসামরিক স্থাপনা ও নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলাকে উস্কানিমূলক হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। কাতার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি জানান, শনিবার ভোরে রিয়াদের আকাশসীমায় হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার আগেই সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা শনাক্ত করে ধ্বংস করে দেয়। একই সময় বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবু এলাকায় হুথিদের অনুরূপ হামলা পরিচালনার চেষ্টাও ব্যর্থ করে দিয়েছে জোটের বাহিনী। এর আগে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়ি দাবি করেছিলেন যে, রিয়াদের সংবেদনশীল স্থাপনা ও ইয়ানবুতে আরামকো তেল কোম্পানির স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ ধরনের দাবির সত্যতা বা হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি স্বতন্ত্র কোনো পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার রিয়াদের কাছে বড় আকারের ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার কথা জানান। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ ও আল-খারজ এলাকায় আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকির সতর্কতা জারি করার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কথা জানিয়ে ‘অল ক্লিয়ার’ ঘোষণা করে। তবে হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সৌদি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। পর্যবেক্ষকদের মতে, জুলাই মাস থেকে হুথিদের সঙ্গে সৌদি জোটের সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, যার মধ্যে শনিবারের এই হামলাটি রাজধানীকে লক্ষ্য করে পরিচালিত অন্যতম বড় ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

এই সংঘাত কেবল দুই পক্ষের লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও সৌদি আরবে হুথিদের ধারাবাহিকভাবে চালানো এসব হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং ইয়েমেনে সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে সব পক্ষকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগেও ১৫ সেপ্টেম্বর খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় কাতার একইভাবে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল এবং বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এসব দাবির ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সময়ে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় হুথি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াইও বেড়েছে।

শেয়ার করুন