তারুণ্যের শক্তি ও সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

প্রকাশ:

একটি দেশের বর্তমানকে গতিশীল এবং ভবিষ্যৎকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তরুণদের সৃজনশীলতা, সাহস, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মক্ষমতা সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের অধিকার, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে প্রতিবছর ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৯৯ সালে এই দিবসটি ঘোষণা করে এবং ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী তা পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং তাদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।

তরুণরা একটি দেশের সবচেয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। নতুন কিছু শেখার আগ্রহ এবং ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা তাদের মধ্যে বেশি থাকে। সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পেলে তারা অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিতে অসাধারণ অবদান রাখতে পারে। বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো ক্ষেত্রে তরুণরা তাদের দক্ষতা প্রমাণ করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা গেলে তা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। চাকরির পেছনে না ছুটে অনেক তরুণ এখন উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি তরুণদের সামনে বেকারত্ব, শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরির বাজারের মধ্যে দক্ষতার ঘাটতি, মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং এবং অনলাইন আসক্তির মতো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার ও ভুল তথ্যের প্রভাবও তাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। কেবল শিক্ষিত করাই যথেষ্ট নয়; তরুণদের নৈতিকতা, মানসিক দৃঢ়তা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের শিক্ষাও দিতে হবে। শিক্ষার মূল ভিত্তি হতে হবে মানসম্মত ও বাস্তবমুখী, যা তাদের জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলবে।

তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও বাজারসুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সামাজিক পরিবর্তন, পরিবেশ রক্ষা, রক্তদান ও দুর্যোগ মোকাবিলায় তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। একটি উন্নত সমাজ গঠনে তাদের মধ্যে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করা জরুরি। প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করে একে সৃজনশীল কাজের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

তরুণদের শুধু ভবিষ্যৎ হিসেবে না দেখে তাদের বর্তমানের অংশীদার হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে তাদের স্বপ্ন ও মতামতকে সম্মান জানাতে হবে এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বের আসনে বসবে। আন্তর্জাতিক যুব দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, তরুণরা দেশের বোঝা নয়, বরং সবচেয়ে বড় সম্পদ। সঠিক শিক্ষা ও সুযোগ পেলে তরুণরাই একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে।

শেয়ার করুন